বাংলার ভোর প্রতিবেদক
প্রায় ৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নতুন ১০০ শয্যার ভবন এখনো চালু হয়নি। কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় ভবনটি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে, ফলে বাথরুমের ফিটিংস, ট্যাপ ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের দৃশ্যমান পাইপসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনা ঘটছে। ইতোমধ্যে ভবনের বিভিন্ন স্থানের রংও নষ্ট হয়ে গেছে।
হাসপাতালটি দীর্ঘদিন ধরে রোগীসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। চৌগাছা ছাড়াও ঝিকরগাছা, মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর উপজেলার বিপুলসংখ্যক রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৬০০ থেকে ৭০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। ৫০ শয্যার বিপরীতে গড়ে ১০০ থেকে ১৩০ জন রোগী ভর্তি থাকেন, যাদের বড় অংশ নারী।
রোগীর চাপ বিবেচনায় হাসপাতালটি ৫০ থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এর অংশ হিসেবে ৬ তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণ করা হয়। স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে তিনটি গুচ্ছে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এর মধ্যে মূল ভবন নির্মাণে ব্যয় হয় ২১ কোটি ৪৬ লাখ টাকা এবং অক্সিজেন প্ল্যান্টসহ সরবরাহ লাইনে ব্যয় হয় আরও ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা। ২০২১ সালের ২৯ এপ্রিল শুরু হওয়া নির্মাণকাজ ২০২৩ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর শেষ হয়। তবে ভবন হস্তান্তর হলেও এখনো সেখানে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়নি।
অন্যদিকে, জনবল সংকটে বিদ্যমান ৫০ শয্যার সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী ৩২ জন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে আছেন ১৭ জন, যার মধ্যে কয়েকজন প্রেষণে রয়েছেন। দীর্ঘদিন অনুপস্থিত আছেন ডা. মৃদুল কান্তি, ডা. গোলাম রসুল , সামান্তা রহমান শান্তা এবং ডা. সঞ্চিতা সেন। অনুপস্থিত ৪ জনের ৩ জনই দেশের বাইরে আছেন। বর্তমানে মাত্র ৯ জন চিকিৎসক সেবা দিচ্ছেন।
সিনিয়র দুই স্টাফ নার্স জানান, চিকিৎসক, নার্স এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর সংকটে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। চারজন মিডওয়াইফারি কর্মী বদলি হলেও নতুন কেউ যোগ দেননি। পাশাপাশি সুইপার ও ঝাড়ুদারের ঘাটতিও রয়েছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ আহসানুল মিজান রুমী বলেন, ১০০শয্যা নতুন ভবণ চালুর অনুমতি থাকলেও মেডিকেল অফিসার, কনসালট্যান্ট, নার্স থেকে শুরু করে সব পর্যায়েই জনবল সংকট রয়েছে। যার কারণে আমরা চালু করতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, প্রায় দশ লাখ টাকার বাথরুমের ফিটিংস, ট্যাপ ও সেন্ট্রাল অক্সিজেন লাইনের দৃশ্যমান পাইপসহ বিভিন্ন মালামাল চুরির ঘটনাও ঘটেছে। থানায় অভিযোগও দেয়া হয়েছে। কিন্তু কোন মালামাল এখনও উদ্ধার হয়নি।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, ১০০ শয্যার জন্য প্রশাসনিক অনুমোদন ইতোমধ্যে হয়েছে। ওষুধ ও রোগীদের খাদ্যের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। অনুমোদন পেলে দ্রুত কার্যক্রম শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০০৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা উপজেলা পর্যায়ে দেশসেরা হাসপাতাল হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি ২০১৮ সালে জাতীয় পুরস্কার লাভ করে। সর্বশেষ ২০২০ সালে স্বাস্থ্যসেবায় দেশের সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘হেল্থ মিনিস্টার ন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড’ অর্জন করে।

