বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরে পালিত হয়েছে মহান মে দিবসে। শুক্রবার যশোর জেলা প্রশাসক এবং কলকারখানা প্রতিষ্ঠান ও পরিদর্শন অধিদপ্তরের আয়োজনে আলোচনা সভা, র্যালি ও চেক বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল সাড়ে ৯ টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ১ তারিখ মহান মে দিবস, এ দিন সভা সমাবেশ র্যালি সব কিছুই হয়। কিন্তু দিন শেষে শ্রমিকের ভাগ্যে কতটুকু জোটে সেই প্রশ্ন থেকেই যায়।
দীর্ঘদিন পর যেহেতু একটি গণতান্ত্রিক সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে স্বাভাবিকভাবেই শ্রমিকের প্রত্যাশা অনেক বেশি। এই সরকার দায়িত্ব গ্রহণের এক মাসের মধ্যেই ঈদ উল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় সকল গার্মেন্টস মালিক সরকার নির্ধারিত সময় মেনে বেতন বোনাস পরিশোধ করেছে। এবার আর শ্রমিকদের বেতন বোনাসের দাবিতে রাস্তায় নামতে হয়নি।
তিনি আরো বলেন, সামনে ঈদ উল আযহাতে নির্ধারিত সময়ে শ্রমিকরা তাদের বেতন বোনাস পাবেন। এটাই এই সরকারের প্রতিশ্রুতি।
প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, জুলাই গণঅভ্যুথানে যারা মৃত্যুবরণ করেছেন তার অধিকাংশই শ্রমিক। তাই আমাদের অঙ্গীকার রয়েছে শ্রমিকদের কাজ ফিরিয়ে দেয়ার। তবে কর্মসংস্থান সংকটের সমাধান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি কলকারখানাগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকার চেষ্টা করছে শ্রমিকদের ন্যায্যমুজুরি নিশ্চিত করার।
মে দিবসের র্যালি পূর্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে তিনি আরো বলেন, হাওর অঞ্চলে অতিবৃষ্টির কারণে কৃষকের যে ক্ষতি হয়েছে তা পুষিয়ে দেয়ার জন্য আগামী তিন মাস সরকারের তরফ থেকে তাদের একটি বিশেষ খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে। এই উদ্যোগগুলো শ্রমিকদের জন্য, যাতে একটি সুখী সমৃদ্ধিশালী বাংলাদেশ তৈরি হয়।
আলোচনা শেষে শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়। এরপর বের হয় র্যালি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বর থেকে শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মোড় গিয়ে শেষ হয় র্যালিটি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, যশোরে পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, চেম্বার অব কমার্স অ্যাণ্ড ইণ্ডাস্ট্রির সাধারণ সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান প্রমুখ।

