শ্যামনগর সংবাদদাতা
সুন্দরবনে বনদস্যুদের তৎপরতা কোনোভাবেই থামছে না। প্রতিনিয়ত সুন্দরবনে মাছ কাঁকড়া ও মধু আহরনে যাওয়া জেলেদের অপহরণের ঘটনায় চরম আতঙ্কের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন উপকূলের বনজীবীরা। তারই জের ধরে ৯ দিনের ব্যবধানে সাতক্ষীরা রেঞ্জ সুন্দরবনে আবারও ৮ জেলে অপহরণ হয়েছে। অপহৃত বনজীবীদের স্বজন ও মহাজনদের কাছে মুক্তিপণ হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছে দস্যুরা।
জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদের খাল, গুবদের খাল ও ধ্যানোখালীর চর এলাকায় মাছ ধরা ও মধু আহরণের সময় দস্যুদের অপহরণের শিকার হন ৮ জেলে।
অপহৃতরা হলেন শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের মীরগাঙ এলাকার নজরুল তরফদার (৪৫), আবদুর রহমান (৩৫), ছোট ভেটখালী এলাকার আবদুল হামিদ মোড়ল (৫০), আটুলিয়া ইউনিয়নের আবদুল আলিম (৪০), হাবিবুর রহমান (৪৮) ও আনোয়ারুল ইসলাম (৪২) এবং খুলনা জেলার কয়রা এলাকার আবদুস সাত্তার (৪০) ও শাহিনুর রহমান (৩৮)।
সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালী ও মৌয়ালদের অভিযোগ, বনদস্যু নির্মূলে সরকারের কঠোর নির্দেশনা, বন বিভাগ ও কোস্ট গার্ডের অভিযানের পাশাপাশি মাঝে মধ্যে বড় পরিসরে কোস্টগার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান পরিচালনা হলেও সুন্দরবনে বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য কোনো ভাবেই কমছে না।
বরং জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় যেনো বনদস্যুদের নিয়মিত রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে বননির্ভর সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেন, বনজীবী অপহরণের বিষয়ে অপহৃত বনজীবীর সহযোগী কিংবা স্বজনদের কেউ আমাদের জানায়নি। তবে এ বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।
শ্যামনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় অপহৃত কোনো পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ করেনি। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে না জানিয়ে বনজীবীদের পক্ষ থেকে গোপনে সমঝোতা করে নেয়া হয়। তবে অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত ৪ ও ৫ মে সুন্দরবনের গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালীর খাল, মাহমুদা নদীর মাথাভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদের চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করা হয়। সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দেয়ার বিনিময়ে তারা মুক্তি পান।

