চৌগাছা সংবাদদাতা
যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়ীয়ালী গ্রামে এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় স্থানীয় ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা রাজু আহমেদকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাশাপোল ইউনিয়নের ৩ নম্বর বাড়ীয়ালী ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাজু আহমেদ স্থানীয় বিএনপির নেতা হিসেবেও পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, বাড়ীয়ালী গ্রামের প্রবাসী তোতা মিয়ার অনুপস্থিতিতে তার স্ত্রীর সঙ্গে রাজু আহমেদের দীর্ঘ আড়াই বছর ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল বলে এলাকায় গুঞ্জন ছিল।
শনিবাররাতে রাজু আহমেদ গোপনে ওই নারীর সঙ্গে তার নিজ বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে গ্রামবাসী রাজু আহমেদের বাড়ি ঘেরাও করে এবং তাদের আপত্তিকর অবস্থায় আটক করে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়দের রহমান হোসেনের ভাষ্য, ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ক্ষুব্ধ জনতা রাজু আহমেদকে গণধোলাই দেয়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে ঘটনার পর অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে রক্ষায় রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ইউপি সদস্য রাজুকে ‘ফাঁসানোর চেষ্টা’ করা হয়েছে। তবে এ বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গ্রামবাসী। তাদের ভাষ্য, হাতেনাতে আটকের পরও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা চলছে।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
এ বিষয়ে চৌগাছা থানার নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক অফিসার ইনচার্জ মামুনুর রশীদ বলেন, “ঘটনা সত্য। আমি দশপাখিয়া পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের সেখানে পাঠিয়েছিলাম। পরে গ্রামীণ শালিস বিচারের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়েছে।”
তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রাজু আহমেদ এবং বিএনপির স্থানীয় নেতাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল বলছেন, জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ গুরুতর। নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা দরকার। একই সঙ্গে গ্রাম্য শালিসের নামে অপরাধ আড়াল করা হলে সমাজে নেতিবাচক বার্তা যাবে।
এ ঘটনায় চৌগাছা উপজেলাজুড়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে।

