বাংলার খেলা প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদের খুলনা বিভাগ থেকে বিপুল ভোটে পরিচালক নির্বাচিত হয়েছেন যশোরের সন্তান, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক ও দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রশাসক শান্তনু ইসলাম সুমিত।
রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। এবারের নির্বাচনে ঢাকা ও অন্যান্য বিভাগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ থাকলেও আসল নির্বাচনী আমেজ এবং তুমুল লড়াই হয়েছে খুলনা ও বরিশাল বিভাগ এবং ঢাকার ক্লাব ক্যাটাগরিতে।
দীর্ঘদিন পর দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরামে যশোর থেকে একজন যোগ্য ব্যাক্তি প্রতিনিধি নির্বাচিত হলেন। তবে জেলার ক্রীড়া সংগঠক, সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড় এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মনে করছেন, সুমিতের এই বিজয়ের মাধ্যমে বিসিবিতে যশোরের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের খরা দূর হলো।
বিসিবি নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোকে নিয়ে গঠিত ক্যাটাগরি-১ এর ১০ পরিচালকের মধ্যে ৭ জনই আগেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে খুলনা বিভাগে দুইটি পরিচালক পদের বিপরীতে প্রার্থী ছিলেন ৩ জন। এই হেভিওয়েট ত্রিমুখী লড়াইয়ে কাউন্সিলরদের প্রত্যক্ষ ভোটে বিজয়ের মালা পরেন শান্তনু ইসলাম সুমিত এবং শফিকুল আলম তুহিন। তাদের কাছে পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়েছে অপর প্রার্থীকে। অন্যদিকে, বরিশাল বিভাগের একমাত্র পদটিতে মুন্তাসির আলমকে হারিয়ে বিসিবির পরিচালক হয়েছেন বিপিএলের দল ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান।
রাজনৈতিক ও পারিবারিক ঐতিহ্য নবনির্বাচিত বিসিবি পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিত দেশের এক ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক ও সমাজসেবক পরিবারের সন্তান। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক প্রভাবশালী সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী মরহুম তরিকুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র। একই সাথে তিনি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অত্যন্ত জনপ্রিয় ও বহুল প্রচারিত দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক হিসেবে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
শান্তনু ইসলাম সুমিতের বিসিবি পরিচালক নির্বাচিত হওয়ার খবর যশোরে পৌঁছানোর পরপরই স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। ক্রিকেট বোর্ডের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের শক্তিশালী কোনো কণ্ঠস্বর ছিল না। ক্রীড়া সংশ্লিষ্টদের মতে, সুমিতের মতো একজন তরুণ, আধুনিক মননশীল ও মাঠপর্যায়ের সংগঠক ক্রিকেট বোর্ডে যুক্ত হওয়ায় যশোরের ক্রিকেট পরিকাঠামো উন্নয়ন, নতুন প্রতিভার অন্বেষণ এবং আঞ্চলিক ক্রিকেট একাডেমির স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে।

