বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
চায়ের কাপে ভাপ উঠছে, কিন্তু সেই ভাপের আঁড়ালে জমে আছে দুশ্চিন্তা। বিক্রি কমে যাওয়া, ঋণের কিস্তির চাপ, দোকানভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিতে চাপে রয়েছেন যশোরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
নতুন জাতীয় বাজেটকে ঘিরে তাই তাদের প্রত্যাশা;
নতুন কিছু উদ্যোগ: যা ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে সহায়তা করবে।
যশোর শহরের দড়াটানা, চাঁচড়া, বেজপাড়া, রেলগেট, পালবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছর ব্যবসায় মন্দাভাব চলছে। ক্রেতা কমে যাওয়ায় আয় কমেছে, কিন্তু খরচ কমেনি। ফলে সংসার ও ব্যবসা দুটিই সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
রেলগেট এলাকার চা বিক্রেতা রাব্বি হোসেন বলেন, ‘আগে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে ক্রেতার ভিড় থাকত। এখন অনেক সময় বসে থাকতে হয়। চা, চিনি, দুধসহ সব কিছুর দাম বেড়েছে। বাজেটে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ এবং বিদ্যুৎ বিলে কিছু সহায়তা থাকলে উপকার হতো।’
একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী ওসমান আলী বলেন, ‘আমরা বড় কোনো সুবিধা চাই না। শুধু এমন ব্যবস্থা চাই, যাতে ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারি। ছোট ব্যবসার জন্য কর ও ভ্যাটের নিয়ম আরও সহজ করা দরকার।’
দড়াটানা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী শরীফ উদ্দীন জানান, বর্তমানে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা পুঁজির সংকট। তিনি বলেন, ‘ব্যাংক ঋণ পাওয়া কঠিন, আর পেলেও সুদের হার বেশি। বাজেটে যদি কম সুদে ঋণের সুযোগ বাড়ানো হয়, তাহলে অনেক ব্যবসায়ী ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন।’
বেজপাড়ার কসমেটিকস ব্যবসায়ী লিমন হোসেন বলেন, ‘বিক্রি কমে যাওয়ায় নতুন পণ্য তুলতে ভয় লাগে। ঋণের কিস্তি দিতে অনেক সময় ধার করতে হয়। বাজেটে কিস্তি পরিশোধে বিশেষ সুবিধা বা পুনঃতফসিলের সুযোগ থাকলে উপকার হতো।’
চাঁচড়া এলাকার ব্যবসায়ী আফজাল হোসেনের দাবি, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য আলাদা প্রণোদনা তহবিল গঠন করা প্রয়োজন। তিনি বলেন, ‘বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য নানা সুযোগ থাকে। কিন্তু ছোট ব্যবসায়ীরাই সবচেয়ে বেশি সংকটে থাকেন। তাদের জন্য বিশেষ সহায়তা প্রয়োজন।’
ব্যবসায়ীদের মতে, আসন্ন বাজেটে কয়েকটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া জরুরি। এর মধ্যে রয়েছে-কম সুদে ঋণ প্রদান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন, ভ্যাট ও কর কাঠামো সহজকরণ, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের ব্যয় সহনীয় রাখা এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য বিশেষ প্রণোদনা চালু করা।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের কর্মসংস্থানের একটি বড় অংশ সৃষ্টি করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাত। এই খাতকে সহায়তা না দিলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও চাপে পড়তে পারে। তাই বাজেটে ক্ষুদ্র ব্যবসাবান্ধব নীতি গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করছেন তারা।
যশোরের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা এখন বাজেটের দিকে তাকিয়ে আছেন। তাদের প্রত্যাশা, এবার এমন কিছু সিদ্ধান্ত আসবে যা শুধু ব্যবসা নয়, তাদের পরিবার ও জীবিকার ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। ছোট ব্যবসার চাকা সচল থাকলে স্থানীয় অর্থনীতিও গতিশীল থাকবেÑএমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

