বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সংরক্ষিত গোডাউন থেকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর কথা বলে কোটি টাকার উচ্চ শুল্কের জব্দকৃত প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের পণ্য পাচারের চেষ্টার অভিযোগে কাস্টমসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তাসহ তিন জনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার দিবাগত রাতে বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে মালামাল বোঝাই একটি ট্রাকসহ তাদের আটক করা হয়। আটকরা হলেন, বেনাপোল কাস্টমস হাউজের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা (এআরও) ইন্দ্রজিত মুখার্জী, ট্রাকচালক মহসিন আলী এবং হেলপার জাহিদ হাসান।
কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, বিজিবি ও চেকপোস্ট কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময় জব্দ করা উচ্চ শুল্কের ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস, কসমেটিকসসহ বিভিন্ন পণ্য কাস্টমসের গোডাউনে সংরক্ষণ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর এসব জব্দকৃত পণ্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে হস্তান্তর করা হয়।
কাস্টমস সূত্রে আরও জানা যায়, তবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে, সোমবার রাত ২ টার দিকে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে পাঠানোর কথা বলে কাস্টমস হাউজের একটি গোডাউন থেকে দুইটি ট্রাকে করে বিপুল পরিমাণ পণ্য বের করা হচ্ছিল। এ সময় অভিযান চালিয়ে বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে আহাদ পার্সেল এন্ড কুরিয়ার সার্ভিসের ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৫৬২১ নম্বরের একটি কাভার্ড ভ্যান আটক করে বিজিবি। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে উচ্চমূল্যের শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিক্স ও বিভিন্ন প্রসাধনী সামগ্রি পাওয়া যায়।
যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান সোমবার রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, ভারতীয় শাড়ি, থ্রিপিস ও কসমেটিকস ভর্তি একটি ট্রাক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া বেনাপোল বাজার অতিক্রম করছে। এ সময় বেনাপোলের দুর্গাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ট্রাকটি আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত মালামালের বাজারমূল্য দুই কোটি সাতষট্টি লাখ পয়ষট্টি হাজার তিনশত দশ টাকা।
তিনি জানান, গত ২৪ মে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নিলাম শাখা থেকে জারি করা এক সরকারি পত্রে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) স্থায়ী আদেশ অনুসারে আটক থাকা ত্রাণযোগ্য পণ্য প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়া হয়। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ত্রাণভান্ডারে পাঠানোর জন্য নির্ধারিত পণ্যের মধ্যে ছিল ৩ হাজার ২২টি শাড়ি, ৫৮টি থ্রি-পিস, ২০৮টি চাদর, ২৬৩টি কম্বল ও ৮টি ওড়না। মোট ৩ হাজার ৫৫৯টি ত্রাণসামাগ্র ঢাকার তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণভান্ডারে পাঠানোর কথা ছিল। ওই পত্রে গুদাম কর্মকর্তা ও সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জীকে পণ্য হস্তান্তরের দায়িত্ব দেয়া হয় এবং প্রাপ্তিস্বীকারপত্র সংগ্রহ করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেয়ার নির্দেশনা ছিল।
আরও জানান, ত্রাণসামগ্রী পরিবহনের জন্য দুটি যানবাহন ভাড়া করা হয়েছিল। এর মধ্যে একটি ট্রাকে সরকারি নথিতে উল্লেখিত ত্রাণসামগ্রি তোলা হয়। অপরদিকে একই পণ্যাগার থেকে বিপুল পরিমাণ উচ্চমূল্যের শাড়ি, থ্রি-পিস, কসমেটিক্স ও প্রসাধনী সামাগ্র একটি কাভার্ড ভ্যানে বোঝাই করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কাভার্ড ভ্যানটি আগে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিজিবি সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বেনাপোলের দুর্গাপুর মোড় এলাকা থেকে সেটি আটক করে।
এদিকে বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা যায়, বিজিবি কর্তৃক মালামাল আটকের খবর পেয়ে কাস্টমসের সংরক্ষিত গোডাউন এলাকায় গিয়ে কর্মকর্তারা অপেক্ষমান আরও একটি মাল বোঝাই ট্রাক দেখতে পান। তবে ওই ট্রাকের চালক ও হেলপারকে পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।
ঘটনার পর কাস্টমস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ মুখার্জী ও আরিফসহ তিনজন সিপাহীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি পণ্য পাচারের অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

