কেশবপুর পৌর সংবাদদাতা :
যশোরের কেশবপুরে সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়ে ও ‘মব’ সৃষ্টি করে প্রেসক্লাব দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলা বিএনপির প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত এ ঘটনা ঘটায়। হামলায় ৭ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
তারা হলেন-প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকার কেশবপুর প্রতিনিধি আশরাফ-উজ-জামান খান, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক কল্যাণ পত্রিকার আবদুল্লাহ আল ফুয়াদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দৈনিক লোকসমাজের জয়দেব চক্রবর্ত্তী, সাবেক সহসভাপতি ও সমকালের প্রতিনিধি মোতাহার হোসাইন, নির্বাহী সদস্য ও সময়ের খবরের মেহেদী হাসান জাহিদ, সদস্য ও প্রথম আলোর প্রতিনিধি দীলিপ মোদক এবং দৈনিক করতোয়ার শেখ শাহীনুর ইসলাম।
আহতদের ভেতর সাংবাদিক জয়দেব চক্রবর্ত্তী, আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, মেহেদী হাসান জাহিদ ও আশরাফ-উজ-জামান খানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতরা স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। ১৯৭৮ সালের ২০ জানুয়ারি কেশবপুর প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী দুই বছর অন্তর নির্বাচন হয়।
সে লক্ষ্যে আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর প্রেসক্লাবে দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর ৬ দিন আগেই রোববার দুপুরে ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুর নেতৃত্বে একদল বহিরাগত কেশবপুর প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে।
এ সময় প্রেসক্লাবে থাকা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলার পর অভিযুক্ত চক্রটি কেশবপুর প্রেসক্লাব দখল করে নিজেদের মতো করে ৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি স্বঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে।
ওই কমিটিতে কেশবপুর প্রেসক্লাবের সদস্য ও দৈনিক দিনকাল প্রতিনিধি মাহাবুর রহমানকে আহ্বায়ক, হারুন আর রশিদকে সদস্য সচিব এবং ওয়াজেদ আলী খান ডাবলুকে সদস্য করা হয়েছে। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে জানিয়ে সাংবাদিক মেহেদী হাসান জাহিদ বলেন, হঠাৎ বহিরাগতরা এসে আমাদের ওপর হামলা চালায়।
হামলায় ৭ জন সাংবাদিক আহত হয়েছে। আহতদের ভেতর ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। কেশবপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আশরাফ-উজ-জামান খান অভিযোগ করে বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বহিরাগতরা এসে মব তৈরি করে জোরপূর্বক প্রেসক্লাব দখল করাসহ মারধর করে। তারা কেউ প্রেসক্লাবের সদস্য নন।
কেশবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ওখানে সাংবাদিকদের মধ্যে একটা বিরোধ চলছে। আমার ফোর্স গিয়েছিলো। আমরা বলেছি আপনারা থানায় আসেন। আমরা দুইপক্ষের সাথে বসে আলোচনা করবো। হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কিছু জানি না।
এমন ঘটনা ঘটলে কেউ অভিযোগ দিলে আমরা ব্যবস্থা নিবো। কেউ এখনও থানায় অভিযোগ দিতে আসেনি।
