চৌগাছা সংবাদদাতা :
যশোরের চৌগাছা উপজেলার স্বরূপদাহ ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে নীতিমালা অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। প্রয়োজনীয় ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব গুদাম না থাকা সত্ত্বেও মেসার্স মাহিম ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর আলমকে ডিলার হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সার ব্যবসায়ীরা। এ ঘটনায় নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ডিলারশিপের জন্য আবেদনকারী কয়েকজনের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যবসায়ী থাকলেও তাদের বাদ দিয়ে মাহিম ট্রেডার্সকে নির্বাচন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব গুদাম নেই। একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কক্ষকে গুদাম হিসেবে দেখিয়ে আবেদন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিনুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়ের কোনো কক্ষ জাহাঙ্গীর আলম কিংবা আলেয়া বেগমের কাছে ভাড়া দেয়া হয়নি। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ বজলুর রহমান নামের এক ব্যক্তিকে ভাড়া দেয়া হয়েছে। সেখানে এখনো তাঁর পাট ও ধান মজুদ রয়েছে। অন্য কেউ ওই কক্ষ ভাড়া নেয়ার কাগজ দেখালে তা যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগ রয়েছে, একই গুদাম দেখিয়ে জাহাঙ্গীর আলম ও আলেয়া বেগম ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেন। এ নিয়ে কৃষি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে জাহাঙ্গীর আলম ও আলেয়া বেগমের স্বামী লোটনের মধ্যে বিরোধের ঘটনাও ঘটে।
স্বরূপদাহ ইউনিয়নে আবেদনকারীদের মধ্যে মাহিম ট্রেডার্স ছাড়াও ছিল ফয়সাল ট্রেডার্স ও আব্দুর সাত্তার। ফয়সাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী হাবিবুর রহমান হবি দাবি করেন, তার নিজস্ব গুদাম রয়েছে এবং ১০-১৫ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি সার, বিজ ও কীটনাশকের ব্যবসা করছেন। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করেও তাকে ডিলার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়নি।
হাবিবুর রহমান বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নিয়ম মেনে ব্যবসা করছি। প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করেও ডিলারশিপ পাইনি। অথচ যার নিজস্ব গুদাম নেই, তাকে কীভাবে নির্বাচিত করা হলো, তা বোধগম্য নয়।’ তিনি নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই এবং সব আবেদনকারীর কাগজপত্র পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানান।
এদিকে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শুধু স্বরূপদাহ নয়, উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও সার ডিলার নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের গুদাম, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিকেরা।
অভিযোগের বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার ক্ষমতা আছে, তাই ডিলার নিয়োগ পেয়েছি। কার কী করার আছে, করুক।’
চৌগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা বেগমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে কল ও লিখিত বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। সবকিছু ইউএনও মহোদয় করেছেন।’
এদিকে যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, প্রত্যেক উপজেলা থেকে যাচাই-বাছাই করে ডিলার নিয়োগের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
সেগুলো ঢাকায় পাঠানোর পর নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তবে তথ্য গোপন করে বা নিয়মবহির্ভুতভাবে কেউ নিয়োগ পেয়ে থাকলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি জানান, যশোরসহ ছয়টি জেলার সার ডিলার নিয়োগ স্থগিত রয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি কাজ করবে।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ডিলার নিয়োগে আবেদনকারীদের যোগ্যতা, ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ও গুদাম সুবিধা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
