ঝিকরগাছা সংবাদদাতা :
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও কৃষি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবিরা নাজমুল মুন্নি।
এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দুর্গোৎসবের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের নিরাপত্তা, সমান অধিকার ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি উপজেলার নির্বাসখোলা ইউনিয়নের দাশপাড়া ও শিওরদাহ পূজামণ্ডপ এবং বাঁকড়া ইউনিয়নের দিকদানা শিব ও দুর্গাপূজামণ্ডপ, উজ্জ্বলপুর, ভান্ডারঘর ও বালিশাডাঙ্গা পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে সাবিরা নাজমুল মুন্নি বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, মানবিক মূল্যবোধ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের এক অনন্য প্রতীক। বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। এ দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, নিরাপত্তা, সম্মান ও সমান অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। ধর্ম, বর্ণ, জাতি কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কোনো মানুষ যেন বৈষম্য, অবহেলা বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হন, সেটিই সবার প্রত্যাশা হওয়া উচিত।
তিনি আরও বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষে মানুষে কোনো বিভেদ থাকবে না। একজন মানুষ অন্য মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে শ্রদ্ধা করবেন। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষ পারস্পরিক ভালোবাসা, বিশ্বাস ও সম্প্রীতি নিয়ে পাশাপাশি বসবাস করবেন। ঈদ, দুর্গাপূজা, বুদ্ধপূর্ণিমা কিংবা বড়দিন—প্রতিটি ধর্মীয় উৎসবই আমাদের মধ্যে আনন্দ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করবে। একজন মানুষের ধর্মীয় পরিচয় কখনোই তাঁর নাগরিক অধিকার কিংবা নিরাপত্তা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হতে পারে না।”
সাবিরা নাজমুল মুন্নি বলেন, “ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার; ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার সবার। মানুষের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো, তিনি একজন মানুষ এবং বাংলাদেশের একজন নাগরিক। তাই সব ধর্মের মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাঁদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া এবং যেকোনো সংকটে পারস্পরিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। কোনো অপশক্তি যেন ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।”
তিনি বলেন, দুর্গোৎসব আনন্দময় ও নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী এবং সর্বস্তরের মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নারী, শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের নিরাপদে উৎসবে অংশগ্রহণের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ যেন নিজেদের অসহায় বা অবহেলিত মনে না করেন; বরং সবাই যেন সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে এ দেশের নাগরিক হিসেবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, “আমাদের রাজনীতি হতে হবে মানুষের কল্যাণ, অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নিরাপদ, মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের জন্য। মতের ভিন্নতা ও রাজনৈতিক আদর্শের পার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু মানুষের অধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শারদীয় দুর্গোৎসব সবার জীবনে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি ও সম্প্রীতির বার্তা বয়ে আনুক—এটাই আমার প্রত্যাশা।”
পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুরাদুন্নবী মুরাদ, থানা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর আমিরুল ইসলাম, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালাম, বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেন, নির্বাসখোলা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হবিবর রহমান, উপজেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত কল্লোল এবং কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. নওয়াজীস ইসলাম রিয়েলসহ যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্রদল ও বিভিন্ন অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
