বাংলার ভোর প্রতিবেদক
আষাঢ়ের শুক্লা দ্বিতীয়া তিথিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে যশোরে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের ৯ দিনব্যাপি রথযাত্রা।
বৃহস্পতিবার সকালে বিভিন্ন মন্দিরে মাঙ্গলিক আচার, বিশেষ পূজা, হরিনাম সংকীর্তন ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। বিকেলে হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণে রথের রশি টেনে উৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। আগামী ২৪ জুলাই উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে।
যশোর শহর ও আশপাশের বিভিন্ন মন্দিরে রথযাত্রা উপলক্ষে ছিল নানা ধর্মীয় আয়োজন। এর মধ্যে শহরতলীর চাঁচড়া দশমহাবিদ্যা এলাকার ইসকন মন্দিরের আয়োজন ছিল সবচেয়ে বড় ও আকর্ষণীয়। বিকেলে সেখান থেকে শ্রীশ্রী জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার বিগ্রহ বহনকারী সুসজ্জিত রথ নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়।
শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে বেজপাড়ার তারাপ্রসন্ন বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত শ্রীশ্রী শ্যামা মায়ের মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিগ্রহসহ রথটি সাত দিন অবস্থান করবে। এ সময় প্রতিদিন পূজা, আরতি, প্রসাদ বিতরণ ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে।
এ ছাড়া ঝুমঝুমপুর রাধাগোবিন্দ মন্দির থেকে জগন্নাথ, বলরাম ও সুভদ্রার রথ শোভাযাত্রাসহ বেজপাড়া গয়ারাম রোডের মন্দিরে নেয়া হয়। নীলগঞ্জ মহাশ্মশান, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন এবং বেজপাড়া পূজা মন্দিরেও রথযাত্রা উপলক্ষে ধর্মীয় আলোচনা, নামসংকীর্তন, পূজা-অর্চনা ও রথটানার আয়োজন করা হয়। এসব আয়োজনে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিপুলসংখ্যক ভক্ত অংশ নেন।
রথযাত্রা উপলক্ষে মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সড়কজুড়ে বসেছে খেলনা, মাটির পুতুল, ধর্মীয় সামগ্রী ও বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির অস্থায়ী দোকান। শিশু-কিশোরদের পদচারণা, ভক্তদের উপচে পড়া ভিড় এবং উৎসবমুখর পরিবেশে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস, রথযাত্রায় অংশগ্রহণ ও রথের রশি টানলে পূণ্যলাভ হয় এবং ভগবান জগন্নাথের আশীর্বাদ লাভ করা যায়। সেই বিশ্বাস থেকেই সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী হাজারো ভক্ত রথযাত্রায় অংশ নিয়ে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।

