বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অবৈধ বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং সার সিন্ডিকেট ভেঙে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা শাখা।
সোমবার বিকেল সাড়ে ৫ টায় বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে দলীয় কার্যালয়ে এসে মেষ হয়।
এর আগে বিকেল ৪টায় দলীয় কার্যালয়ে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গাজী আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য নজরুল ইসলাম। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা সম্পাদক তসলিম উর রহমান, কেন্দ্রীয় নেতা নাজিম উদ্দিন, জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান, অধ্যাপক ইসরারুল হক, সকিনা বেগম দিপ্তি, চৈতন্য কুমার পাল, সিরাজুল ইসলাম প্রমূখ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ যে অধিকার, স্বাধীনতা ও মর্যাদার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছে, তা উপেক্ষা করে কোনো বিদেশি শক্তির আধিপত্য মেনে নেয়া হবে না।
চট্টগ্রাম বন্দরের মতো কৌশলগত ও সার্বভৌম সম্পদ বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ড এর হাতে তুলে দেওয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে জাতীয় স্বার্থবিরোধী বাণিজ্য চুক্তি করার তীব্র সমালোচনা করেন তাঁরা।
একই সাথে সরকারের অপ্রয়োজনীয় বোয়িংও ইয়ার বাস বিমান কেনার উদ্যোগের সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান সরকারের নতজানু নীতি দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছে।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও জনজীবনের সংকট তুলে ধরে নেতৃবৃন্দ বলেন, সার, ডিজেল ও পেট্রোলসহ জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের চরম দুর্ভোগে ফেলেছে।
অবিলম্বে সার সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা, আসন্ন ইরি-বোরো মৌসুমে সেচ কাজের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
এ ছাড়া সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের বিচার দাবি করা হয়। পাশাপাশি দেশের ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অপতৎপরতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তারা।
