বাংলার ভোর প্রতিবেদক
মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে দেশের অন্যতম ‘মডেল’ শিক্ষা ধারা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিক্ষাবিদগণ। তারা বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা দ্বীনি শিক্ষায় আলোকিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের যোগ্য ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার এবং সিভিল সার্ভিসের কর্মকর্তা হয়ে দেশ পরিচালনায় নেতৃত্ব দেবে।
বুধবার যশোরে পিটিআই মিলনায়তনে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘মাদরাসায় উচ্চ শিক্ষা: সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক সেমিনারে এ আহ্বান করেন বক্তারা। সেমিনারে যশোর জেলার বিভিন্ন ফাজিল ও কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সভাপতি ও গভর্নিং বডির সদস্যগণ অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান। তিনি মাদরাসা শিক্ষাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আমরা আমাদের মাদ্রাসা শিক্ষাকে এমনভাবে সাজাতে চাই এবং এমন শিক্ষার্থী গড়ে তুলতে চাই, যারা এখান থেকে শিক্ষা শেষ করে দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দেবে। মাদরাসা শিক্ষাকে যদি আমরা এই অবস্থানে নিয়ে যেতে পারি, তবে অভিভাবকগণ তাদের সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য ‘ফার্স্ট চয়েস’ হিসেবে এই শিক্ষাধারাকেই বেছে নেবেন।’ তিনি দেশের মুসলমানদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নের প্রতিফলন এই ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে দেশের অন্যতম মডেল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক এবং প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা মাদ্রাসা থেকে পড়াশোনা করে এসেছেন। বিভিন্ন সেক্টরে আমাদের এই সাফল্যগুলো তুলে ধরতে হবে। অনেক সময় ছাত্ররা ভবিষ্যতে কী করবে তা নিয়ে হতাশায় ভোগে। তাদেরকে স্বপ্নের রাজ্যে উড়িয়ে দিতে হবে, বড় স্বপ্ন দেখাতে হবে।’
অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা শিক্ষার বাস্তব কিছু চ্যালেঞ্জের কথাও উঠে আসে। মাঠপর্যায়ে পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে বক্তারা জানান, অনেক মাদরাসায় এখনও মূল সিলেবাসের বই বা সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় বইয়ের অভাব রয়েছে। মাদরাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে এই ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত প্রতিবন্ধকতাগুলো দ্রুত দূর করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার শাহীদুল ইসলাম, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন পরিচালক প্রফেসর নওসের আলী এবং যশোর জেলা শিক্ষা অফিসার মাহফুজুল হোসেন।

