বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর সদর উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় ১৫ টাকা কেজি দরে সরকারি চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ডিলার শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে। অক্টোবর মাসে উপকারভোগীদের চাল না দিয়ে তা খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ডিলারের চাল বিতরণসংক্রান্ত কাগজপত্র জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আশরাফুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাশিমপুর ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার শামীম হোসেনের বিরুদ্ধে অক্টোবর মাসে উপকারভোগীদের নির্ধারিত পরিমাণ চাল বিতরণ না করে খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ ওঠে। এ ছাড়া নির্ধারিত ডিলার পয়েন্ট ও গুদাম বিজয়নগরে থাকার কথা থাকলেও তা অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেন কয়েকজন সুবিধাভোগী। এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে তদন্তে নামে ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রথমে বিজয়নগরে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে ডিলার পয়েন্ট পাওয়া যায়নি। পরে ডিলার শামীম হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডিলার পয়েন্ট খয়েরতলা বাজার এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এরপর অভিযানকারী দল খয়েরতলা পুরাতন স্টেশনের পাশে অবস্থিত ডিলার পয়েন্টে গিয়ে তদন্ত শুরু করে। সেখানে ডিলারের উপস্থিতিতে কয়েকজন উপকারভোগীর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয়। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন অক্টোবর মাসের বরাদ্দের চাল পাননি বলে অভিযোগ করেন।
এ সময় চাল বিতরণসংক্রান্ত তথ্য ও কাগজপত্র যাচাই করে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া যায় বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরে তদন্তের স্বার্থে ডিলারের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জব্দ করা হয়।
অভিযানের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করা হয়েছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, ডিলার পয়েন্ট বিজয়নগরে থাকার কথা থাকলেও সেখানে সেটি পাওয়া যায়নি। পরে খয়েরতলা পুরাতন স্টেশনের পাশে ডিলার পয়েন্টের সন্ধান মেলে। উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে চাল বিতরণে কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে। কয়েকজন অক্টোবর মাসের চাল না পাওয়ার অভিযোগও করেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানানো হলে তিনি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা ও অনিয়মের বিস্তারিত জানা যাবে।
তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ডিলার শামীম হোসেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেই ডিলার পয়েন্ট স্থানান্তর করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধের জেরে একটি পক্ষ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার চালাচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি বরাদ্দের চাল অন্যত্র বিক্রির কোনো সুযোগ নেই। তাঁর বিরুদ্ধে চাল বিক্রির অভিযোগের প্রমাণ কেউ দেখাতে পারবে না। তাঁকে হয়রানি ও পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যেই এসব অভিযোগ করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
জানা গেছে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় কাশিমপুর ইউনিয়নের পাঁচ শতাধিক নিম্নআয়ের মানুষের প্রত্যেকের মাসে ১৫ টাকা কেজি দরে ৩০ কেজি চাল পাওয়ার কথা। সে হিসাবে একজন উপকারভোগী ৪৫০ টাকায় ৩০ কেজি চাল পান। কর্মসূচিটি তদারকির দায়িত্বে রয়েছে জেলা ও উপজেলা খাদ্য বিভাগ।
এদিকে, যশোর সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে মণিরামপুর উপজেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে যশোর সদরের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। একজন কর্মকর্তার অধীনে দুটি বড় উপজেলার কার্যক্রম পরিচালনার কারণে প্রশাসনিক কাজ ও তদারকিতে জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সরকারি খাদ্যসহায়তা কর্মসূচির চাল বিতরণে ওঠা এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
