সাতক্ষীরা সংবাদদাতা :
উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এবিএম মোস্তাকিমের আস্থাভাজন সন্ত্রাস বিরোধী আইন মামলার আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা কুল্যা ইউপি চেয়ারম্যান ওমর সাকি পলাশের সাথে একই স্টেজে ওসি শাহিদুর রহমানের অংশগ্রহণের ঘটনা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ঘটনাটি ভিন্ন ভাবে দেখছেন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দরা।
থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হয়ে কিভাবে আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের প্রস্তুতি সভায় নেতৃদানকারী আওয়ামী লীগ নেতা সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯-এর উপজেলায় প্রথম মামলার ১ নং আসামি ওমর সাকি পলাশের সাথে স্টেজে একসাথে বসতে পারেন।
গত ২১ জুন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ইউপি চেয়ারম্যান ওমর সাকি পলাশের নেতৃত্বে কচুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিছনের একটি বাড়ির ছাদে গোপন সভা চলছিল। তৎকালীন ওসি শামীম আহমেদের নেতৃত্বে অভিযানে চেয়ারম্যান ওমর সাকি পলাশ ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতিসহ ৮ জনকে আটক করা হয়।
এ ঘটনায় সন্ত্রাস বিরোধী আইন, ২০০৯ এর ৬, ৭, ৮, ৯, ১০, ১১, ১২ ও ১৩ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বলেন, মামলার ১নং আসামি ওমর সাকি পলাশের সাথে একই স্টেজে ওসি শাহিদুর রহমান আসন গ্রহণ করে থাকা মানে আওয়ামী লীগের সাথে হাত মিলানো।
ওসি শাহিদুর রহমান আশাশুনিতে যোগদানের পর থেকে থানায় গ্রুপিংয়ের কোন্দলের বদলির খেলা দেখা দিয়েছে বলে তারা অভিযোগ করে বলেন, এএসআই অমিত হাসান ও নারী পুলিশ সদস্য সহকারী বকশি (নারী) অপরাজিতা নিশির বিরুদ্ধে ওসি ও সার্কেল এসপি বরাবর একাধিকবার তাদের অনিয়মের কথা জানানো হলেও তাদের কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে নানা কথা শোনা যায়।
গোপন সূত্রে জানা গেছে এএসআই অমিত হাসান ওসির একান্ত কাছের হওয়ায় তার কিছুই হচ্ছেনা। বকশী হুমায়ুন থানা থেকে বদলি হয়ে যাওয়ার পর দায়িত্ব পান পুলিশ সদস্য অপারাজিতা নিশি। তার বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক অভিযোগ। অর্থ চাওয়ার নতুন কৌশল তার। নকলের ফটোকপির নামে চেয়ে নেয়া হয় অর্থ।
বর্তমানে নতুন বকশি ইকবাল হোসেন আশাশুনি থানায় যোগদানের পর ও এএসআই অমিত হাসানের সহযোগিতায় সহকারী বকশি হিসাবে অফিস করছেন অপারাজিতা নিশি। ডিউটি বন্টন করেন সহকারী বকশি অপরাজিতা নিশি। সেখানে আছে অনিয়ম।
নিজের রাগ মেটাতে সহকর্মীদের সাথে ডিউটিতে গড়মিলের অভিযোগ রয়েছে। ওসির গাড়িতে ও জরুরি ডিউটিতে যোগ করা হয়েছে নারী পুলিশ সদস্যের ডিউটি। পুলিশ সদস্যরা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি শাহিদুর রহমানের এমন কর্মকান্ডে খুশি নন। এ নিয়ে চায়ের দোকান, হাটবাজারে কানাঘুসি শোনা যাচ্ছে। অথচ থানায় সাবেক ওসি জাহাঙ্গীর আরিফ যোগদানের পর আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ নেতারা ছিলেন উপজেলার বাহিরে। ওসির সাঁড়াশি অভিযানে আওয়ামী নেতাদের গ্রেফতারের হিড়িক ছিলো। জেলার সর্বোচ্চ মাদক মামলার আসামি গ্রেফতার হয়েছিলো।
সীমিত সময়ে আইন শৃঙ্খলায় উন্নতি করা এবং আওয়ামী লীগে নেতাদের আতঙ্ক ওসি জাহাঙ্গীর আরিপ বদলী হওয়ায় স্থানীয় বিএনপিসহ সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ প্রতিবাদ জানিয়েছিলো এবং পুনরায় তাকে থানায় বহাল রাখার জন্য পুলিশ সুপার ও রেঞ্জ ডিআইজির হস্তক্ষেপের দাবী জানিয়েছিলো।
সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলার ১ নং আসামি আওয়ামী লীগ নেতা ওমর সাকি পলাশের সাথে একই স্টেজে থাকায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে তার বিরুদ্ধে পুলিশ সুপার ও রেঞ্জ ডিআইজির নিকট ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এএসআই অমিত হাসান ও সহকারী বকশির বিষয়ে সার্কেল এসপির কাছে জানতে চাইলে তিনি তদন্ত পূর্বক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন।
পুলিশ সুপার জানান, বকশির আবার সহকারী হয় নাকি। তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন তিনি।
