বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধান এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে সাততলা বিশিষ্ট ৪৮টি ফ্ল্যাটের একটি আবাসিক ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যশোর শহরের মণিহার সিনেমা হল রোডসংলগ্ন পুরাতন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় ভবনটি নির্মাণ করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য আবাসনের সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এসব কর্মীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান, জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন খোকনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, সরকারি কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যসম্মত ও বাসযোগ্য রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাদের শ্রম ও নিষ্ঠার ওপর শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার একটি বড় অংশ নির্ভরশীল।
অথচ এসব কর্মীর আবাসনসহ জীবনযাপনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাদের আবাসন সমস্যা সমাধান এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এআবাসিক ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হলে যশোর পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা উন্নত আবাসন সুবিধা পাবেন।
এর মাধ্যমে তাদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা বৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে প্রকল্পটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাততলাবিশিষ্ট ভবনটিতে মোট ৪৮টি ফ্ল্যাট থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য পরিকল্পিত আবাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োজিত কর্মীদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপন আরও সুশৃঙ্খল হবে এবং কর্মপরিবেশ উন্নয়নেও সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
যশোর শহরের উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারণের ধারাবাহিকতায় পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জন্য এ আবাসিক ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রকল্পটি যথাসময়ে ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন হলে পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের আবাসন সংকট নিরসনে তা সহায়ক হবে।
পাশাপাশি শহরের পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
