বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের বিভিন্ন উপজেলা দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে স্বাস্থ্য স্যানিটেশন ও আবাসন প্রকল্পের নামে প্রায় ৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছে পকল্পের মাঠ পর্যায়ের কর্মীরা। একটি চক্রের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে কনফারেন্স রুমে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা অভিযোগ করেন, এই পকল্পের এক কর্মকর্তা শফিকুজ্জামানসহ কয়েক কর্মকর্তা প্রণোদনা ব্র্যাক নামের একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ঘর, টিউবওয়েল, সৌর বিদ্যুৎ, সেলাই মেশিন ও স্বল্পমূল্যে নিত্যপণ্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। পরে তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন উপজেলা থেকে দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে। তবে নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী স্বপ্না সুলতানা নামে এক কর্মী জানান, গ্রাহকদের ঘর ও অন্যান্য সুবিধা দেয়ার কথা বলে ঝিকরগাছা উপজেলা থেকে ৬০ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ১৬ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। একইভাবে লিমা খাতুন, সালমা বেগম, বেবি, ইতি খাতুনসহ অন্যান্য কর্মীদের দিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত সংগ্রহ করেছে। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় গ্রাহকদের চাপে মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
ভুক্তভোগী কর্মীরা আরো জানান, প্রকল্পে তাদের চাকরি দেওয়ার নাম করে তাদের কাছ থেকে ইসলামী ব্যাংকের চেকের পাতা নেয়া হয় এবং বিভিন্ন ব্যাংকে অ্যাকাউন্ট খোলার নামেও অর্থ আদায় করা হয়। এছাড়া ১০ হাজার টাকার কার্ড দেয়ার কথা বলে ৩০ লাখ টাকা এবং অ্যাকাউন্ট খোলার নামে আরও ১৩ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে সাফিয়া নামের আরেক কর্মী জানান, তার এরিয়া ছিলো সদর উপজেলা। এ উপজেলার ১৫০ জনের কাছ থেকে কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকার সংগ্রহ করেছে। তবে এই টাকা গুলো সংগ্রহের সময় ৩ মাসের মধ্যে প্রকল্পো বাস্তবায়ন হবে বলেছিলো। এখন গ্রাহকদের চাপে টাকা ফেরত চাইলে উল্টো আমাদের ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে দাবি করছেন এই কর্মী। তারা আরো অভিযোগ করেন, থানায় অভিযোগ করলেও কোন কাজ হয় না।
তবে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়ে অভিযুক্ত শফিকুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন আমি কিছু জানিনা আবাসন প্রকল্পের ম্যানেজার মুরাদ জানে।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাইদ জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

