সোহাগ হোসেন, বাগআঁচড়া
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া ও পার্শ্ববর্তী এলাকার হাটবাজারগুলোতে ডিজেলের বাজারে চরম অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। লিটারের পরিবর্তে কেজি হিসেবে এ অঞ্চলে বিক্রি হচ্ছে ডিজেল। আর তাও বিক্রি করা হচ্ছে বেশি দামে। এতে সেচ মৌসুম ও কৃষি যান্ত্রিকীকরণের এই সময়ে পকেট কাটা যাচ্ছে সাধারণ প্রান্তিক কৃষকদের।
সরকারি হিসাবে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১১৫ টাকা। জ্বালানি তেলের ঘনত্ব অনুযায়ী ১ লিটার ডিজেলের ওজন হয় প্রায় ৮৪০ গ্রাম। সেই হিসেবে ১ কেজি ডিজেলের দাম হওয়ার কথা প্রায় ১৩৬.৮৫ টাকা। অথচ বাগআঁচড়া ও কায়বা এলাকার মুদি দোকানগুলোতে প্রতি কেজি ডিজেল বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা দরে। অর্থাৎ কেজি প্রতি কৃষকদের কাছ থেকে প্রায় ৩৮ টাকা অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে।
কায়বা রুদ্রপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী রফিক কাজী জানান, আগে আমরা ১২৪ টাকা কেজি দরে ডিজেল কিনে বিক্রি করতাম। কিন্তু এখন পাইকারি পর্যায়েই আমাদের চড়া দামে ডিজেল কিনতে হচ্ছে। ফলে ১৭৫ টাকার নিচে বিক্রি করা ছাড়া কোন উপায় নেই। তার দাবি, পাইকারি বাজারেই সিণ্ডিকেটের কারণে দামের এই অস্বাভাবিক তারতম্য।
শার্শা উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকরা জানান, যাতায়াত খরচ ও দূরত্বের কারণে তারা পাম্পে না গিয়ে হাতের কাছের মুদি দোকান থেকেই ডিজেল কেনেন। এই সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছেন এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী। চাষিরা যখন গ্রামের ছোট দোকান থেকে ডিজেল কেনেন, তখন তাদের আরও চড়া মূল্যে কিনতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কৃষক বলেন, সরকার দাম কমালো কি বাড়ালো তাতে আমাদের কোনো উপকারে আসে না। গ্রামের দোকানে যে দাম চায়, আমরা বাধ্য হয়ে সেই দামেই ডিজেল কিনি। “প্রশাসন” এসি রুমে বসে বাতাস খায় এগুলো কেউ দেখে না।
সচেতন মহলের দাবি, পেট্রোল পাম্প কর্তৃপক্ষ ও বড় বড় ব্যবসায়ীরা ন্যায্যমূল্যের পরিবর্তে সিণ্ডিকেট করে চড়া দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অবিলম্বে স্থানীয় প্রশাসন নিয়মিত বাজার মনিটরিং এর মাধ্যমে তেলের এই কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি রোধ করার দাবি জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে ওয়াহিদ জানান, যদি কোন ব্যবসায়ী সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ডিজেল বিক্রি করেন, তবে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

