জাহিদুল কবীর মিল্টন ও কাজী নূর :
যশোর শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে অবস্থিত পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড হসপিটালের স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ও ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হলেও প্রতিষ্ঠানটি অবৈধভাবেই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে হাসপাতালটির সেবার মান, জনবল, প্যাথলজি কার্যক্রম ও পরিবেশ নিয়েও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সেবা নিতে আসা ব্যক্তিরা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে হাসপাতালটিতে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন বয়সী রোগী ও সেবাপ্রত্যাশীদের উপস্থিতি রয়েছে। হাসপাতালের ভেতরে রোগী ও স্বজনদের চলাচল এবং বিভিন্ন কার্যক্রমে বিশৃঙ্খল পরিবেশও দেখা যায়। তবে অভিযোগগুলোর সবকটির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলেও তারা কোন সদুত্তর দেননি।
স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদনের মেয়াদ প্রায় এক বছর আগে শেষ হয়েছে। ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদও শেষ হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজপত্র নবায়ন না করেই প্রতিষ্ঠানটি এখনো তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে চলেছে।
জনবল ও প্যাথলজি নিয়েও প্রশ্ন
বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্ধারিত জনবল, চিকিৎসক, নার্স, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, জীবন রক্ষাকারী ওষুধ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে। তবে পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড হসপিটালে এসব শর্তের সবগুলো যথাযথভাবে পূরণ করা হচ্ছে না বলেই সরেজমিনে দেখা যায়।
সরেজমিনে প্যাথলজি কার্যক্রম চালু থাকতে দেখা গেলেও সেখানে নিয়মিত প্যাথলজিস্ট চিকিৎসকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় যোগ্যতাসম্পন্ন জনবলের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম দক্ষ কর্মীদের দিয়ে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হচ্ছে। এ ছাড়া হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নিবন্ধিত চিকিৎসক ও ডিপ্লোমাধারী নার্স রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সেবাপ্রত্যাশী। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রতিষ্ঠানটিতে ডিপ্লোমাধারী টেকনিশিয়ান ও নার্স দু’টোরই রয়েছে সংকট।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রোগী ভর্তি বা চিকিৎসার প্রয়োজন হলে অনেক সময় বাইরে থেকে চিকিৎসক এনে সেবা দেয়া হয়। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি এ প্রতিবেদককে।
পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ নিয়েও অভিযোগ
হাসপাতালে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য তুলনামূলক বেশি অর্থ নেয়া হচ্ছে বলে কয়েকজন রোগী ও স্বজন অভিযোগ করেছেন। তাদের দাবি, পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচ ও সেবার মূল্য সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য সবসময় স্পষ্টভাবে জানানো হয় না।
অনুমোদন নবায়নের বিষয়ে যা বললেন সিভিল সার্জন
হাসপাতালটির অনুমোদন নবায়ন না করার বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন মাসুদ রানার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মেয়াদোত্তীর্ণ বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর মালিকদের অনুমোদন নবায়নের জন্য বলা হয়েছে।
নবায়নের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা দেয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেয়া হয়নি। তবে নবায়ন না করলে বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে জানানো হবে বলে জানান তিনি।
তদারকি নিয়ে প্রশ্ন
যশোরে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদন, জনবল, চিকিৎসাসেবা ও বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত তদারকির দাবি রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম যথাযথভাবে নজরদারি না হওয়ায় কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মনীতি অনুসরণে শিথিলতা দেখানোর সুযোগ পাচ্ছে।
এদিকে, স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অবৈধভাবে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেয়ার অভিযোগও বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগটি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
পপুলার মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড হসপিটালের অনুমোদন, জনবল, প্যাথলজি কার্যক্রম, সেবার মূল্য এবং অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
