বিশেষ প্রতিনিধি
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক পরিদর্শক বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে কর্মরত অবস্থায় চারটি বেসরকারি সিরামিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে দায়িত্ব পালনের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বিপুল পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
একাধিক সূত্রের দাবি, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ষষ্ঠ গ্রেডের কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি **বেস্ট সিরামিকস লিমিটেড, লোটাস সিরামিকস লিমিটেড, সনি সিরামিকস লিমিটেড এবং ক্রিস্টাল সিরামিকস লিমিটেড**-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে তালিকাভুক্ত রয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানে তার শেয়ারও রয়েছে। এর মধ্যে বেস্ট সিরামিকসে ৭ হাজার শেয়ার, লোটাস সিরামিকসে ৪ হাজার ৫০০ শেয়ার, সনি সিরামিকসে ৬ হাজার ৬০০ শেয়ার এবং ক্রিস্টাল সিরামিকসে ৩৬ হাজার শেয়ার রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান হিসেবে যথাক্রমে গোলাম মোস্তফা খান, মোহাম্মদ সিরাজুল হক ও আতিউর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, সরকারি চাকরিতে থেকে বেলায়েত হোসেন গাজীপুর এলাকায় নিজের ও বেনামে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ বিঘা জমির মালিক হয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, ২০১০ সালে তিনি একটি সিরামিক কোম্পানির নামে স্থানীয়দের কাছ থেকে জমি কিনেছিলেন।
গাজীপুরের বাসিন্দা শাকিল অভিযোগ করে বলেন, তার বাবার কাছ থেকে কোম্পানির নামে জমি কেনা হলেও তারা ন্যায্যমূল্য পাননি। তার ভাষ্য, ওই সময়ের লেনদেনে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বেলায়েত হোসেন পরবর্তী সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ২০১০ সালে সনি সিরামিকস লিমিটেড গাজীপুর এলাকায় ৩ একর ৮৫ শতক জমি ক্রয় করে। শাকিলের বাবার জমির পরিমাণ ছিল মাত্র সাড়ে ১৫ শতক। বরং তিনি জালিয়াতির মাধ্যমে কোম্পানির কাছে জমি বিক্রি করেছিলেন, এতে কোম্পানিই আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
চারটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, তিনি সিরামিক বিষয়ে ডিপ্লোমাধারী ও বিশেষজ্ঞ। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তাকে না জানিয়েই ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এ বিষয়ে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। এছাড়া প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
এ বিষয়ে রংপুর আঞ্চলিক কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা নাজমুল ইসলাম বলেন, “তিনি আমাদের এখানে দায়িত্ব পালন করেন। তবে অফিসের বাইরে বা ঢাকায় গিয়ে তিনি কী করেন, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। যদি কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম সচিব আক্কাচ আলী বলেন, “বেলায়েত হোসেন রংপুর অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিদর্শক। তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
উল্লেখ্য, বেলায়েত হোসেনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়গুলো তদন্তাধীন এবং চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত নয়।

