সাতক্ষীরা সংবাদদাতা :
সাতক্ষীরায় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নির্ধারণে ব্যাপক অনিয়ম, বৈষম্য ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত বিভাগের (পিডব্লিউডি) নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার মো. আব্দুল ওয়াহিদের বিরুদ্ধে। একই প্রকল্পে পাশাপাশি অবস্থিত দুটি ভবনের মূল্য নির্ধারণে অস্বাভাবিক ব্যবধান সৃষ্টি করে একজনকে কোটি টাকা পাইয়ে দেয়া এবং অপরজনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ এনে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুল জলিল।
গত ৬ জুলাই (২০২৬) সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে আব্দুল জলিল দাবি করেন, সাতক্ষীরা-সখীপুর-কালীগঞ্জ ও কালীগঞ্জ-শ্যামনগর-ভেটখালী মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য তার পলাশপোল মৌজার ০.০৭০৩ শতক জমি এবং সেখানে নির্মিত সচল তিনতলা আরসিসি মার্কেট ভবনটি অধিগ্রহণ করা হয়। কিন্তু ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের সময় তার ভবনের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে কম ধরা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, তার ভবনের পাশেই অবস্থিত ‘আল-বারাকা’ আবাসিক হোটেল ও মার্কেটের মাত্র ০.০২৯৮ শতক অধিগ্রহণকৃত জমির ওপর থাকা আংশিক অবকাঠামোর মূল্য অলৌকিক ও রহস্যজনকভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৫ হাজার ৬০০ টাকা ২ পয়সা। অথচ তার ঠিক পাশেই অবস্থিত তুলনামূলকভাবে বড় আয়তনের এবং একই ধরনের নির্মাণমানের তিনতলা মার্কেট ভবনের জন্য অবকাঠামোর মূল্য ধরা হয়েছে মাত্র ২৬ লাখ ১৭ হাজার ১৫৯ টাকা ৯৪ পয়সা এবং ১০ লাখ ২২ হাজার ১০৫ টাকা ৭৬ পয়সা।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এই মূল্য নির্ধারণ কোনো সাধারণ ভুল নয়; বরং গণপূর্ত বিভাগের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে পাশের আল-বারাকা মার্কেট মালিকের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ও অবৈধ যোগসাজশের মাধ্যমে ইচ্ছাকৃত। এতে সরকার যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে ও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে, তেমনি তিনি নিজে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, ২০০৬ সালে আল-বারাকা মার্কেটটি ক্রয়ের পর নিয়ম বহির্ভুতভাবে অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করা হলেও সেই ভবনের মূল্যায়ন অস্বাভাবিক বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে। একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করলে এই দুর্নীতির প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার মো. আব্দুল ওয়াহিদ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আল-বারাকা হোটেলের মূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি অস্বীকার করে মুঠোফোনে বলেন, “ক্ষতিপূরণ নির্ধারণের বিষয়টি আমরা পুনরায় তদন্ত করে দেখব।”

