প্রবাস বাংলা ডেস্ক :
সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর জন্য ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী ফালিহ আল-জাইদি। আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ইরাক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বৈঠকে এ আশ্বাস দেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। গত মে মাসে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম সৌদি আরব সফর।
ইরাকি বার্তা সংস্থার বরাতে জানা গেছে, বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, প্রতিবেশী দেশগুলোর শান্তি ও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে, এমন কোনো কর্মকাণ্ডে ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা এবং পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার নীতিতে অটল রয়েছে বাগদাদ।
সম্প্রতি সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ ‘ইস্ট-ওয়েস্ট’ তেল পাইপলাইনে ড্রোন হামলার ঘটনার পর ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর এ সফর বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
গত মাসে সংঘটিত ওই হামলা ইরাকের ভূখণ্ড থেকে চালানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার কারণে সৌদি আরবকে সাময়িকভাবে তেল রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখতে হয়। এতে দেশটির জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়।
সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ এলাকা থেকে পশ্চিমাঞ্চলের লোহিত সাগর উপকূলে অপরিশোধিত তেল পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইন। হামলার পর সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও বর্তমানে পাইপলাইনটির কার্যক্রম আবার শুরু হয়েছে।
এ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ইরাকের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর এই প্রতিশ্রুতি দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের পথ সুগম হতে পারে।
