মাগুরা সংবাদদাতা
মাগুরার মঘী ইউনিয়নের রাজিবেরপাড়া বাজার এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ১০ থেকে ১৫টি বাড়ি-দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দক্ষিণ নওয়াপাড়া ও মাঝগ্রামের লোকজনের মধ্যে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি বিএনপির স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘাতে রূপ নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংঘর্ষের সময় মঘী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি ও দক্ষিণ নওয়াপাড়ার বাসিন্দা সোহাগ হোসেন এবং জেলা কৃষকদলের নেতা ও মাঝগ্রামের বাসিন্দা সাজ্জাদ মল্লিক আহত হন।
স্থানীয়ভাবে এ বিরোধে দুটি পক্ষের কথা বলা হচ্ছে। এক পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন রাজিবেরপাড়ার কবির মোল্যা, আক্কাস মোল্যা ও হবিবার মোল্যা। অপর পক্ষের নেতৃত্বে রয়েছেন মাঝগ্রামের সাজ্জাদ মল্লিক ও মহিরুল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার পর রাজিবেরপাড়ার কবির মোল্যা ও হবিবার মোল্যার নেতৃত্বে আশপাশের লোকজন নিয়ে রাজিবেরপাড়া গ্রামের কয়েকটি বাড়ি ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মঘী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলেক বিশ্বাসের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুটি মোটরসাইকেল কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়। পরে ঘরে ঢুকে আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। এছাড়া গোয়ালঘর থেকে গরু নিয়ে যাওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া মঘী ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর রহমান ও তার ভাইদের বাড়িসহ আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত ১০ থেকে ১৫টি বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
সাহিদুল মোল্যার দোকানেও হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, দোকান থেকে একটি ফ্রিজ, টেলিভিশন ও নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয়। একইভাবে হারুনের বাড়িতে ভাঙচুরের সময় গরু বিক্রির নগদ টাকা লুটের অভিযোগও করেছেন পরিবারের সদস্যরা।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে এসব ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বক্তব্য ও তদন্তে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

