বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়াম পেতে যাচ্ছে উন্নয়নের ছোঁয়া। স্টেডিয়ামটির উন্নয়ন শীর্ষ প্রকল্পে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বরাদ্দ দিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ বরাদ্দ পেলো যশোরবাসী। দীর্ঘদিন ভঙ্গুর অবস্থায় পড়ে থাকা যশোরের ঐতিহ্যবাহী স্টেডিয়ামটি বড় অংকের অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন সাজে সজ্জিত হবে। গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব উম্মে ইসরাত স্বাক্ষরিত একটি চিঠি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালকের কাছে পাঠানো হয়।
এদিকে, দীর্ঘদিন স্টেডিয়ামটিতে চোখে পড়ার মতো উন্নয়ন কাজ না হওয়ায় একরকম হতাশা ছিলো খেলোয়াড়-ক্রীড়া সংগঠকদের মাঝে। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে তথকালিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার জন্য ভেঙে ফেলা হয় স্টেডিয়ামটি উত্তর পাশের গ্যালারি। শেখ হাসিনা ওই জনসভায় স্টেডিয়ামের উন্নয়নের জন্য বড় ধরণের বরাদ্ধের ঘোষণা দিলেও সেটি আলোক মুখ দেখেনি। এমনকি তার জনসভাকে কেন্দ্র করে ভেঙে ফেলা গ্যালারিটিরও সংস্কার করা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ছয় মাস সময়ে সনামধন্য যশোরের এ স্টেডিয়ামটির উন্নয়নে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ দেয়ায় সর্বমহলে আনন্দের বন্যা বইছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিষয়টি নিয়ে সামাজকি যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে বলেন, আলহামদুল্লিাহ-যশোরের শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ। যশোর উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থন ও সহায়তা করায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা। অসংখ্য ধন্যবাদ ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের প্রতি। এদিকে, গত ৩ সেপ্টম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা-২ শাখা ৩৪.০০.০০০০.০০০.০৯২.১৪.০০০৮.২৬.৪৭৭ জারিকৃত স্মারক পত্রে যশোর শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থায়নের সম্মতির কথা জানা যায়।
এর আগে ২৭ আগস্ট অর্থ বিভাগে ০৭.০০.০০০০.০০০.১২৩.১৪.০০২৭.২৬.৬৪ একটি পত্র পাঠানো হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তৃক প্রস্তবিত ‘যশোর জেলা শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নের বিষয়ে অর্থ বিভাগ, অর্থ মন্ত্রণালয় সম্মতি জ্ঞাপন করে। সেখানে বলা হয় প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় সর্বোচ্চ ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে । প্রকল্পের সমুদয় বরাদ্দ জিওবি অনুদান হিসেবে গণ্য হবে। সুপারিশকৃত অর্থের মধ্যে ডিপিপি সংশোধন করে জনবলের প্রস্তাব প্রেরণ করতে হবে। এ বিষয়ে প্রচলিত অন্যান্য সকল আর্থিক বিধি-বিধান অনুসরণ করতে হবে। সুপারিশকৃত ৩৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার মধ্যে ডিপিপি পুনর্গঠনপূর্বক উক্ত প্রকল্পের জনবল নির্ধারণের প্রস্তাব অর্থ বিভাগে প্রেরণ করতে হবে। অর্থ বিভাগ হতে প্রাপ্ত ‘যশোর শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামের উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নের সম্মতিপত্রটি পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে পাঠানো হয়।
এ বিষয় যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার বর্তমান এডহক কমিটির সদস্য মাহতাব নাসির পলাশ বলেন, চিরাচরিত কথা আছে ভাঙতে পারে সবাই গড়তে পারেনা কেউ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার জন্য স্টেডিয়ামের উত্তর দিকের গ্যালারি ভেঙে ফেলা হয়। সেটা গড়ার জন্য বিশাল অংকের বরাদ্দ দিলেন বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য যশোরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রতি। যিনি যশোর ক্রীড়াঙ্গনের দৈন্য দশা উপলব্ধি করে আগামীর ক্রীড়াঙ্গন যেন সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে পরিচালিত হয় সেদিকে গুরুত্বারোপ করে সম্পুর্ণ একক প্রচেষ্টায় এই বরাদ্দ আনতে সক্ষম হয়েছেন। আগামীতেও তিনি যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের অবকাঠামো এবং ক্রীড়ার মানয়োন্ননে কাজ করবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। একই সাথে তিনি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল ইসলামকেও ধন্যবাদ জানান। মাহতাব নাসির পলাশ আরও বলেন, দীর্ঘদিন যারা যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার নেতৃত্বের ছিলেন তারা যশোরের ক্রীড়াঙ্গণের কোন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করেননি। যারা নেতৃত্বে ছিলেন, তারা কেবল চেয়ার আকড়ে ছিলেন।
