শার্শা সংবাদদাতা :
ভারতে অবৈধভাবে অবস্থান করা নড়াইলের দুই বাংলাদেশি তরুণীকে বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট (আইসিপি) দিয়ে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাদের বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করে।
ফেরত আসা দুই তরুণী হলেন, নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামের লাবু বিশ্বাসের মেয়ে লাবনী বিশ্বাস (১৮) ও একই গ্রামের জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের মেয়ে মনি বিশ্বাস (১৯)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে ভারতে যান লাবনী ও মনি। পরে তারা বেঙ্গালুরুতে অবস্থান করে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে কাজ করতেন। ওই বছরের ২৭ আগস্ট বেঙ্গালুরু পুলিশ তাদের আটক করে।
আটকের পর তাদের ভারতের বালাকিরা বালামন্দির গার্লস হোমে রাখা হয়। সেখানে প্রায় দুই বছর থাকার পর গত ৬ সেপ্টেম্বর তারা মুক্তি পান। পরে একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার সহযোগিতায় তাদের একটি শেল্টার হোমে রাখা হয়।
এরপর ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফেরানোর ব্যবস্থা করা হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ বেনাপোল আইসিপি দিয়ে দুই তরুণীকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাদের বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।
বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুর রহমান জানান, ভালো কাজের আশায় দালালচক্রের মাধ্যমে অবৈধপথে ভারতে গিয়ে ওই দুই তরুণী সেখানে আইনি জটিলতায় পড়েন। বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে ভারত সরকারের বিশেষ ট্রাভেল পারমিটের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। তিনি জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের যশোর জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হবে।
জাস্টিস অ্যান্ড কেয়ারের যশোর ফিল্ড ওয়ার্কার শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশে ফেরত আসা দুই তরুণীকে প্রথমে তাদের শেল্টার হোমে রাখা হবে। পরে যাচাই-বাছাই ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দালালের মাধ্যমে অবৈধ পথে বিদেশে যাওয়ার কারণে অনেক বাংলাদেশি নাগরিক নানা ধরনের হয়রানি, প্রতারণা ও আইনি জটিলতার শিকার হন। তাই দালালচক্রের প্রলোভনে পড়ে অবৈধ পথে বিদেশে না যাওয়ার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
