জাহিদুল কবীর মিল্টন :
যশোর শহরের ঘোপ জেল রোড এলাকায় সরকারি কোনো অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে ইজিবাইক ও অটো-রিকশা তৈরির কারখানা গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে। জেল রোডের বাসিন্দা প্রয়াত কদম রসুলের বাসভবনের ভেতর ‘সোহাগ অটো’ নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আঁড়ালে এই কারখানা পরিচালিত হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির সামনের সাইনবোর্ডে কেবল ‘ইজিবাইক ও থ্রি-হুইলারের খুচরা ও পাইকারি পার্টস বিক্রয়কেন্দ্র’ লেখা থাকলেও ভেতরে গোপনে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০টি নতুন অটো-রিকশা তৈরি করা হচ্ছে।
পরবর্তীতে এসব যানবাহন ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। যশোরের আটটি উপজেলাসহ পাশ্ববর্তী জেলাগুলোতেও ট্রাকে করে এসব অবৈধ যানবাহন সরবরাহ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের নজরদারিহীনতায় লাইসেন্স ও অনুমোদন ছাড়া এভাবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করায় সরকার বিপুল অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে। পাশাপাশি, অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত এসব ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন রাস্তায় নামায় শহরে মারাত্মক যানজট, বিদ্যুতের অপচয় এবং প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগ।
অটো-রিকশা কারখানা স্থাপনে সরকারি আইনি বাধ্যবাধকতা :
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, যেকোনো থ্রি-হুইলার বা অটো-রিকশা তৈরির কারখানা স্থাপনের জন্য বেশ কিছু বাধ্যতামূলক
সনদ ও অনুমতিপত্র প্রয়োজন হয় :
প্রাথমিক আইনি নিবন্ধন: সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হালনাগাদ ট্রেড লাইসেন্স, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড থেকে ই-টিন ও ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আরজেএসসি কোম্পানি নিবন্ধন।
পরিবেশ ও কারখানা নিরাপত্তা: পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে পরিবেশগত ছাড়পত্র, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডিআইএফই) থেকে লে-আউট প্ল্যান অনুমোদন ও কারখানা লাইসেন্স এবং ফায়ার সার্ভিস থেকে ফায়ার লাইসেন্স।
কারিগরি ও মান নিয়ন্ত্রণ: যানবাহনের কারিগরি নকশা ও নিরাপত্তার জন্য বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) থেকে ‘টাইপ অ্যাপ্রুভাল’ এবং খুচরা যন্ত্রাংশের মান যাচাইয়ে বিএসটিআই (বিএসটিআই) সনদ।
অভিযোগ রয়েছে, ‘সোহাগ অটো’র স্বত্বাধিকারী সোহাগের কাছে এসব কোনো সরকারি দপ্তরেরই অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র নেই। আইন-কানুন উপেক্ষা করে কীভাবে দীর্ঘদিন ধরে এমন অবৈধ কারখানা পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের আরো অভিযোগ অবেধ অটোরিকশার ব্যবসা করে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে সোহাগ রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। শহরতলীর কিসমত নোয়াপাড়ায় গড়েছেন বিশাল অট্টালিকা। এ অবস্থায় সচেতন মহল অনতিবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্তপূর্বক আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আশু হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে সোহাগ অটোর স্বত্ত্বাধিকারী জানান, তিনি শুধু পার্টস বিক্রি করেন। এছাড়া অটো রিকশার বিভিন্ন সরঞ্জাম কিনে নিয়ে তিনি ফিটিং করে থাকেন।
