বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোর কুইন্স হাসপাতালের এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে রোগীর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, হুমকি-ধমকি এবং অন্য ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষা করানোর কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে রিপোর্ট ছুড়ে মারার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় শুক্রবার যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন আসমা চৌধুরী (৪৮) নামে এক নারী রোগী।
অভিযোগকারী আসমা চৌধুরী যশোর শহরের পুরাতন কসবা টালীখোলা এলাকার বাসিন্দা। অভিযুক্ত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আকমত আলী দিপু ঢাকার আদ্-দীন মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক এবং যশোরের কুইন্স হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেডে সপ্তাহে দুই দিন চিকিৎসাসেবা দেন।
থানায় দেয়া লিখিত অভিযোগে আসমা চৌধুরী উল্লেখ করেন, গত ১০ সেপ্টেম্বর শারীরিক অসুস্থতার কারণে যশোর শহরের কুইন্স হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেডে অধ্যাপক ডা. মো. আকমত আলী দিপুর পরামর্শ নিতে যান। এ সময় চিকিৎসক তার কাছ থেকে ৭০০ টাকা পরামর্শ ফি নেন এবং কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে বলেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, তিনি একজন নারী হওয়ায় শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করাতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এ কারণে চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশনে থাকা পরীক্ষাগুলো কুইন্স হাসপাতালে না করিয়ে পাশের ইবনে সিনা হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নারী চিকিৎসকের মাধ্যমে করান।
আসমা চৌধুরীর অভিযোগ, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ওই পরীক্ষার রিপোর্ট নিয়ে তিনি পুনরায় অধ্যাপক ডা. আকমত আলীর কাছে যান। রিপোর্টগুলো দেখার পর অন্য প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করানোর বিষয়টি নিয়ে চিকিৎসক তার ওপর ক্ষিপ্ত হন। একপর্যায়ে তার সঙ্গে উগ্র ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চিকিৎসক তার হাতে থাকা পরীক্ষার রিপোর্টগুলো মুখের ওপর ছুড়ে মারেন এবং রিপোর্টগুলো ভুল বলে মন্তব্য করেন। বিশেষ করে এন্ডোস্কপি পরীক্ষা কেন তার কাছে না করিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে করানো হয়েছে, তা নিয়েও তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
আসমা চৌধুরী অভিযোগ করেন, চিকিৎসকের এমন আচরণে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তিনি নিজেকে হৃদরোগী দাবি করে বলেন, চিকিৎসকের উগ্র আচরণের কারণে তার শারীরিক অবস্থারও অবনতি ঘটে।
লিখিত অভিযোগে তিনি আরও দাবি করেন, অন্য চিকিৎসকেরা রিপোর্ট দেখে পরামর্শ দেয়ার জন্য অতিরিক্ত কোনো ফ্রি নেননি। কিন্তু ওই চিকিৎসক রাগান্বিত অবস্থায় তার কাছ থেকে আবারও ৭০০ টাকা ফ্রি নেন এবং পরীক্ষাগুলো পুনরায় কুইন্স হাসপাতাল থেকেই করানোর জন্য বলেন।
অভিযোগকারী বলেন, চিকিৎসকের এ ধরনের আচরণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য অনুরোধ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আকমত আলী দিপু বলেন, আসমা চৌধুরীর পরীক্ষার রিপোর্টে হৃদ্যন্ত্রের সমস্যার বিষয়টি ধরা পড়েছিল। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাকে নতুন করে একটি পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বিষয়টি ভুল বুঝেছেন। তার সঙ্গে কোনো ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়নি।
যশোর কুইন্স হসপিটাল প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ এস এম মাহিনুল হক রিয়ন বলেন, অভিযোগের বিষয়টি লোকমুখে শুনেছি। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো আমার জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জানার পর এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলতে পারব।”
