খান নাজমুল হুসাইন, সাতক্ষীরা :
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে বিপু রেজার রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলা ও পারিবারিক বিরোধ নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। বিপু রেজার মা রেহানা পারভীনের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে তার ছেলে রাসেল রেজা ও পুত্রবধূ অলিমা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। তবে সম্প্রতি রেহানা পারভীন দাবি করেছেন, তাকে চাপ প্রয়োগ করে এই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
উত্তর গোঁদাড়া গ্রামের বাসিন্দা রেহানা পারভীনের ভাষ্যমতে, গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার নামে প্রকাশিত সংবাদের তথ্যগুলো সঠিক নয়। তার অভিযোগ, সাবেক পুত্রবধূ নাছিমা খাতুন অর্থ প্রদান ও মানসিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যমে সাংবাদিকদের কাছে এ মিথ্যা বক্তব্য উপস্থাপন করিয়েছেন। বিবৃতিতে রেহানা পারভীন জানান, ছেলে রাসেল রেজা ও পুত্রবধূ অলিমা ইয়াসমিনের বিরুদ্ধে সম্পত্তি লিখে নেয়া বা নির্যাতনের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা মূল ঘটনা আঁড়াল করার চক্রান্ত।
পরিবারের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১ জুলাই বিপু রেজার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিপু রেজার বাবা আব্দুর রশিদ সরদার সাতক্ষীরা সদর আমলি আদালতে (মামলা নং-১৫৯০/২৫) চারজনকে আসামি করে হত্যা ও প্ররোচনাসহ একাধিক ধারায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন বিপু রেজার স্ত্রী নাছিমা খাতুন, নাছিমার বর্তমান স্বামী হিসেবে উল্লিখিত পুলিশ কনস্টেবল গোলাম মোস্তফা এবং নাছিমার বাবা-মা।
ঘটনায় নতুন মোড় নেয় সাতক্ষীরা পুলিশ লাইন্সে কর্মরত কনস্টেবল গোলাম মোস্তফার প্রথম স্ত্রী কানিজ ফাতিমা ঐশীর পদক্ষেপে। তিনি সাতক্ষীরার পুলিশ সুপার বরাবর লিখিত অভিযোগে দাবি করেন, তার স্বামী গোলাম মোস্তফার সঙ্গে নাছিমা খাতুনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। এর প্রতিবাদ করায় তিনি নিজেও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন।
প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নাছিমা খাতুন। মুঠোফোনে তিনি জানান, তিনি কাউকেই অর্থ দেননি কিংবা রেহানা পারভীনের ওপর কোনো চাপ সৃষ্টি করেননি। বিপু রেজার মৃত্যু ও গোলাম মোস্তফার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে বিশদ মন্তব্য করতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করে ফোন কেটে দেন। অন্যদিকে কনস্টেবল গোলাম মোস্তফাও বিপু রেজা জীবিত থাকাকালে নাছিমার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে মুঠোফোনে মন্তব্য করতে চাননি; তিনি সরাসরি দেখা করে কথা বলার কথা জানান।
বিপু রেজার মৃত্যু, আইনি লড়াই এবং এর জেরে পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নিয়ে এলাকায় চরম ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। একদিকে ভুক্তভোগী পরিবার তাদের ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছে; অন্যদিকে ছেলে-পুত্রবধূর বিরুদ্ধে করা সংবাদের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। নিরপেক্ষ তদন্ত, মামলার নথি পর্যালোচনা ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই এ রহস্যজনক মৃত্যুর মূল সত্য ও প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
