বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের সুইড বুদ্ধি প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের জন্য ৭ দশমিক ৯৮ কাঠা আয়তনের একটি প্রাতিষ্ঠানিক প্লট বরাদ্দ দিয়েছে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে ভাড়া ছাড়াই অন্যের জমিতে পরিচালিত বিদ্যালয়টি এবার নিজস্ব জমি পাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
২৮ সেপ্টেম্বর জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক-২ (ভূমি ও সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা) স্বাক্ষরিত একটি স্মারকপত্রের মাধ্যমে জমি বরাদ্দের বিষয়টি জানানো হয়।
এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তার ফেসবুক পোস্টে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে যশোরের উন্নয়নে অব্যাহত সমর্থনের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যশোরবাসীর পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর প্রতিও শুভেচ্ছা জানান তিনি।
জমি বরাদ্দপত্রে বেশ কিছু শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে, বরাদ্দকৃত জমি শুধু বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় স্থাপনের কাজে ব্যবহার করতে হবে। কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি ছাড়া জমির ব্যবহার বা উদ্দেশ্য পরিবর্তন করা যাবে না। আবাসিক, বাণিজ্যিক কিংবা শিল্প কাজে জমিটি ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া জমিতে কোনো আমমোক্তার নিয়োগ করা যাবে না।
অনুমোদিত লে-আউট প্ল্যান অনুযায়ী বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের একজন মনোনীত প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ভবিষ্যতে জমির সীমানা বা পরিমাণ পুননির্ধারণের ক্ষমতাও সংরক্ষণ করেছে কর্তৃপক্ষ। বিদ্যালয় ভবন বা অন্য কোনো অবকাঠামো নির্মাণের আগে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিধি অনুযায়ী নকশা অনুমোদন নিতে হবে।
সুইড বাংলাদেশ যশোর জেলা শাখার নির্বাহী সচিব আবুল বাশার সাইফুদ্দৌলা জানান, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের অন্যতম কারিগর সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের সহযোগিতায় তার সহধর্মিণী বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক নার্গিস বেগম ১৯৯৪ সালে নিজস্ব জমি বিনা ভাড়ায় দিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে তার জমিতেই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘদিন পর প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব জমি পেল।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর ইসলাম বলেন, “এটি আমাদের জন্য অন্য রকম প্রাপ্তি। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্য চেষ্টা করেছি। প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সহযোগিতায় নিজস্ব জমি পাওয়ায় আমরা আনন্দিত। এতে বিদ্যালয়ের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম আরও এগিয়ে নেয়ার সুযোগ তৈরি হলো।” সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিজস্ব জমি বরাদ্দ পাওয়ায় বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পথ সুগম হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষা ও বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে বলে আশা করছেন তারা।
