বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেড থেকে দুই ট্রাক পণ্য বেরিয়ে ঢাকার সদরঘাট এলাকার একটি গুদামে পৌঁছানোর পর আটকের ঘটনায় কাস্টমসের পণ্য খালাস ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এর মধ্যে দায়িত্ব পালনকালে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ তুলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমান।
সোমবার কাস্টমস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। এর আগে রোববার (১১ অক্টোবর) দেয়া অভিযোগে কাস্টমস হাউসের যুগ্ম কমিশনার-২ শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ আনেন আরমান।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৮ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বেনাপোল স্থলবন্দরের ৪১ নম্বর শেডে দায়িত্ব পালনকালে তাকে ডেকে পাঠান যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা। সেখানে একাধিক কাস্টমস কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বন্দরের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এ ঘটনার প্রতিবাদে কাস্টমসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মবিরতি পালন করেন। এতে প্রায় চার ঘণ্টা পণ্য খালাস কার্যক্রম বন্ধ থাকে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।
কাস্টমস সূত্র জানায়, ৪১ নম্বর শেডে চার ট্রাক পণ্য ছিল। এর মধ্যে দুই ট্রাক পণ্য বন্দর থেকে বেরিয়ে ঢাকার সদরঘাট এলাকার একটি গুদামে পৌঁছায়। পরে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার অভিযানে পণ্যগুলো আটক করা হয়। চালানটির ম্যানিফেস্ট নম্বর ৬০১২০২৬০০৩০০৬২৬৫১।
এর সঙ্গে ঢাকার সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান গ্রিন ওয়ে ইন্টারন্যাশনাল এবং যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবিদ ইন্টারন্যাশনাল সংশ্লিষ্ট বলে সূত্র জানিয়েছে।
দুই ট্রাক পণ্য বন্দরের বাইরে চলে যাওয়ার খবর পেয়ে শেডে গিয়ে খোঁজ নেন যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞা। ওই শেডে পণ্য তদারকির দায়িত্বে ছিলেন সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমান, ট্রাফিক পরিদর্শক মামুনুর রশিদ ও সহকারী শেড ইনচার্জ আশরাফুল আলম।
ঘটনার প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট শেডের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। তাদের মতে, নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে ফুটেজ সংরক্ষণ করে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন।
এদিকে যুগ্ম কমিশনার শরফুদ্দিন মিঞার বিরুদ্ধে অধস্তন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি এবং অসৌজন্যমূলক আচরণের আরও কিছু অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শরফুদ্দিন মিঞার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব না দিয়ে গাড়িতে করে কাস্টমস হাউস ত্যাগ করেন।
সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা মাঈন উদ্দিন আরমান বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
বেনাপোল কাস্টমস কমিশনার ফাইজুর রহমান বলেন, পণ্য খালাস ও কর্মকর্তা লাঞ্ছিত করার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
পণ্য খালাসের নথিপত্র, শুল্কায়ন প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
