কেশবপুর সংবাদদাতা :
যশোরের কেশবপুর উপজেলার ৩ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়নের বায়সা মন্দির পরিদর্শন করেছেন কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে মন্দির পরিদর্শনকালে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আহ্বান জানান।
রোববার মন্দির পরিদর্শনকালে আবুল হোসেন আজাদের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কেশবপুর উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলমগীর কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর সিদ্দিক, ৩ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ও বায়সা ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মাসুদুর রহমান মিলনসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় মন্দিরের সভাপতি অনুজ তরফদার ঝন্টুসহ মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য, পূজারী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্দির পরিদর্শনকালে আলহাজ্ব আবুল হোসেন আজাদ বলেন, দুর্গাপূজা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে মানুষের মধ্যে আনন্দ, ভালোবাসা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে একসঙ্গে বসবাস করতে হবে। সামাজিক ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, “আমি চেষ্টা করব কেশবপুর উপজেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপে গিয়ে সবার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এবং শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করতে। আপনাদের আনন্দের এই উৎসবে পাশে থাকতে চাই। আপনারা সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, আমিও আপনাদের সবার সুস্বাস্থ্য, শান্তি ও কল্যাণ কামনা করি। ভবিষ্যতে আপনাদের সেবা করার সুযোগ পেলে মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব। বিশেষ করে অসহায়, দরিদ্র ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”
আবুল হোসেন আজাদ বলেন, সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করতে হলে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়দের সহযোগিতা করা এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা প্রত্যেকের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি দুর্গোৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অটুট রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পূজামণ্ডপে আগাম সহযোগিতার উদ্যোগ , স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্গাপূজা শুরুর আগেই আবুল হোসেন আজাদ ব্যক্তিগত অর্থায়নে পূজামণ্ডপের সার্বিক কার্যক্রমে সহযোগিতা করেছেন। স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অনেকে তাঁর এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, উৎসবের সময় বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষের খোঁজখবর নেওয়া এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, আবুল হোসেন আজাদ রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়েও বিভিন্ন সময়ে তাঁদের খোঁজখবর নেন। সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন সামাজিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা তাঁর এ আন্তরিকতাকে মূল্যায়ন করেন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “আবুল হোসেন আজাদ একজন ভদ্র ও মানবিক মানুষ। তিনি সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন এবং মানুষের সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শোনেন। রাজনৈতিকভাবে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হতে না পারলেও আমাদের অনেকের কাছে অভিভাবকের মতো। আমরা চাই, তিনি ভবিষ্যতেও এভাবে মানুষের পাশে থাকুন।”
তাঁরা আরও বলেন, ভবিষ্যতে তাঁকে সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চান—এমন প্রত্যাশাও তাঁদের রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় গুণ হলো মানুষের পাশে থাকা, সবার কথা শোনা এবং দল-মত ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার কল্যাণে কাজ করা।
বায়সা মন্দির পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পূজামণ্ডপের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাঁর সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সম্মান ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে।
আবুল হোসেন আজাদ আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কেশবপুর উপজেলার অন্যান্য পূজামণ্ডপেও যাওয়ার এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
সবার প্রত্যাশা—শারদীয় দুর্গোৎসব বয়ে আনুক শান্তি, আনন্দ ও সম্প্রীতি। ধর্ম যার যার, উৎসব সবার—এই চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হোক কেশবপুরের মানুষ।
