মাগুরা সংবাদদাতা :
মাগুরায় পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক শাকের হোসেন হত্যা মামলায় এক নারীসহ দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে রাজনৈতিক বিরোধ, পরকীয়া, সোনার চোরাচালান ও জমি দখলসহ একাধিক বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে। এদিকে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বৃহস্পতিবার মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন এ তথ্য জানান। এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত পৌনে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী শারমিন নাহার বাদী হয়ে মাগুরা সদর থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন শামীমা তাবাসসুম ও রনি সিকদার। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে এ ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, শাকের হোসেন হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধ থেকে পরিকল্পিত হত্যার সম্ভাবনা, পরকীয়া, সোনার চোরাচালান ও জমি দখলসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে মাগুরা কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে রয়েল এক্সপ্রেস পরিবহনের কাউন্টারে দায়িত্ব পালন করছিলেন শাকের হোসেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হত্যাকাণ্ডের আলামত সংগ্রহ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে। ময়নাতদন্তের সময় নিহতের মাথা থেকে রিভলভারের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, শাকের হোসেন হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল করেন বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের সামনে থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে মধুমতি হলের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
শাকের হোসেন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মাগুরায় রাজনৈতিক অঙ্গনসহ স্থানীয় মানুষের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হলেও হত্যার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির দিকে তাকিয়ে রয়েছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
