দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মোংলা বন্দরের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে শিল্পায়ন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থানের বিপুল সুযোগ থাকলেও নানা সীমাবদ্ধতায় সেই সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি। এমন বাস্তবতায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মোংলা সফর এ অঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে এই প্রত্যাশা পূরণে প্রয়োজন কার্যকর পরিকল্পনা ও দ্রুত বাস্তবায়ন।
পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সঙ্গে মোংলার যোগাযোগ সহজ হয়েছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বন্দরের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কিন্তু নাব্যতা সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও প্রশাসনিক জটিলতা এখনো বড় বাধা। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নিয়মিত ড্রেজিং, কাস্টমস কার্যক্রমের আধুনিকায়ন এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও শিল্পকারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খুলনা, বাগেরহাট, যশোর ও সাতক্ষীরাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে স্থানীয় শিক্ষিত ও বেকার তরুণদের কর্মসংস্থানে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি কারিগরি প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তবে শিল্পায়নের পাশাপাশি সুন্দরবন ও উপকূলীয় পরিবেশ সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। বন্দর সম্প্রসারণ কিংবা বড় প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে পরিবেশের ক্ষতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বৈষম্য দূর করাও জরুরি। এজন্য সড়ক, রেল ও নৌযোগাযোগের সমন্বিত উন্নয়ন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক উন্নয়ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দীর্ঘসূত্রতায় হারিয়ে যায়। মোংলার ক্ষেত্রে যেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়। ঝুলে থাকা প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি পর্যালোচনা, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, অর্থ বরাদ্দ এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা মনে করি, মোংলার উন্নয়ন শুধু একটি বন্দরের উন্নয়ন নয়; এটি সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনৈতিক ভাগ্য পরিবর্তনের সুযোগ। প্রধানমন্ত্রীর সফর যেন আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থেকে পরিকল্পিত শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নের কার্যকর সূচনা হয়।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ আর শুধু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুনতে চান না, তাঁরা সেই উন্নয়নের বাস্তব সুফল নিজেদের জীবনে দেখতে চান।
