চুড়ামনকাটি সংবাদদাত :
যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে ছয় মাস ধরে ভূমি সহকারী ও উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার পদ শূন্য রয়েছে। ফলে মাত্র দুজন অফিস সহায়ক দিয়ে চলছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। এতে জমির নামজারি, কাগজপত্র সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।
যশোর সদরের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন চুড়ামনকাটিতে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে জমি কেনাবেচা বেড়েছে। পাশাপাশি যশোর-ঝিনাইদহ মহাসড়কের জমি অধিগ্রহণের কাজ চলায় জমির কাগজপত্র সংশোধনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনে ভূমি অফিসে মানুষের চাপ বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগে ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একজন ভূমি সহকারী, একজন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা এবং দুজন অফিস সহায়ক কর্মরত ছিলেন। কিন্তু গত ছয় মাস ধরে ভূমি সহকারী ও উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তার পদ শূন্য। জনগণের ভোগান্তি কমাতে সপ্তাহে রোববার নয়, সোমবার ও বুধবার অন্য অফিস থেকে একজন কর্মকর্তা এসে দায়িত্ব পালন করেন। তবে সপ্তাহে মাত্র দুই দিন কর্মকর্তা আসায় সমস্যার সমাধান হচ্ছে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, অফিস সহায়ক কাসেদ আলী ও বিউটি বিশ্বাস দুজন মিলে দাপ্তরিক কার্যক্রম সামলানোর চেষ্টা করছেন। কাসেদ আলী বলেন, “আমরা দুজন অফিস সহায়ক ছাড়া এখানে আর কেউ নেই। অফিসের কাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা সব ধরনের সেবা দিতে পারি না। অনলাইনে কাজ করতে প্রয়োজনীয় পাসওয়ার্ডও কর্মকর্তার কাছে থাকে।”
দোগাছিয়া গ্রামের আলমগীর কবীর বলেন, নামজারির একটি কাগজের জন্য তাকে দীর্ঘদিন ঘুরতে হয়েছে। কর্মকর্তা না থাকায় এবং সপ্তাহে মাত্র দুই দিন কর্মকর্তা আসায় তাঁদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আলী রেজা রাজু বলেন, মহাসড়কের জমির কাগজপত্র ঠিক করতে গিয়ে সময়মতো ভূমি কর্মকর্তাকে না পেয়ে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দাউদ হোসেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন কর্মকর্তা না থাকায় সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ছেন। দ্রুত একজন ভূমি সহকারী নিয়োগ দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মিজানুর রহমান বলেন, কর্মকর্তা না থাকায় মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। দ্রুত ভূমি সহকারী নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরবেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, চূড়ামনকাটি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দ্রুত প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা হোক।
