আশাশুনি সংবাদদাতা :
সাতক্ষীরার আশাশুনিতে উপকারভোগীদের জীবিকা উন্নয়ন, উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ এবং সহজ শর্তে ঋণ ও প্রয়োজনীয় সেবা প্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা মডেল মসজিদের কনফারেন্স রুমে সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও উপকারভোগীদের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশ ফিল্ড অফিসের সহযোগিতায় ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও) বাস্তবায়িত ‘ইনক্লুসিভ কমিউনিটি রেজিলিয়েন্স টু ডিজাস্টার অ্যান্ড ক্লাইমেট ভালনারেবিলিটিজ (আইসিআরডিসিভি-৩)’ প্রকল্পের উদ্যোগে কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালনা করেন প্রকল্পের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মো. শামসুল হক মৃধা।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুণ্ডু। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রুমা, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা প্রসেঞ্জিত পাল, আশাশুনি প্রেস ক্লাবের সভাপতি এস কে হাসান, জনতা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক মো. রাসেদুজ্জামান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভিএফএ আফাজ উদ্দিন এবং পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।
কর্মশালায় বিভিন্ন এনজিও, সার-বীজ ও কীটনাশক ব্যবসায়ী, মৎস্য ব্যবসায়ী, হ্যাচারি ও পোল্ট্রি খামারের মালিক, শ্রম সংগঠনের প্রতিনিধি, হাট ইজারাদার, সবজি ব্যবসায়ী এবং প্রকল্পের উপকারভোগীরা অংশ নেন।
কর্মশালায় উপকারভোগীরা জানান, তারা সবজি, মাছ, গলদা ও বাগদা চিংড়ি, মুরগি এবং ছাগল পালনের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেন। তবে উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়া, মানসম্মত বীজ-সার ও বালাই দমন উপকরণের সংকট, বাজারে পণ্য বিক্রির উপযুক্ত জায়গার অভাব এবং ব্যবসা সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় ঋণ না পাওয়া তাঁদের জীবিকা উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে উচ্চ সুদের ঋণ পরিশোধের চাপ সামলানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ সময় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা তাদের বিদ্যমান সেবা, ঋণসুবিধা এবং উপকারভোগীদের জন্য সম্ভাব্য সহযোগিতার ক্ষেত্র তুলে ধরেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী যোগ্য যুবকেরা প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ৪০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণসুবিধা পেতে পারেন। এ ঋণের সুদের হার ৫ শতাংশ।
আলোচনায় ব্র্যাক, জাগরণী চক্র, আইডিয়াল ও উন্নয়ন প্রচেষ্টাসহ বিভিন্ন এনজিওর প্রতিনিধিরা ঋণসুবিধা, প্রশিক্ষণ এবং মানসম্মত বীজ সরবরাহে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুণ্ডু উপকারভোগীদের জীবিকা উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সংযোগ স্থাপনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। এ ধরনের কর্মশালা আয়োজনের জন্য তিনি ইএসডিও ও মুসলিম এইড ইউকে বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি উপকারভোগীদের কল্যাণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
কর্মশালায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও প্রকল্পের উপকারভোগীসহ প্রায় ৫০ জন অংশগ্রহণ করেন।
