শ্যামনগর সংবাদদাতা :
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ঘূর্ণিঝড় পূর্বাভাসভিত্তিক আগাম সাড়াদান কর্মসূচি ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে দুর্যোগ প্রতিক্রিয়াশীলকরণ প্রকল্পের আওতায় উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে শ্যামনগর উপজেলা পরিষদ হলরুমে সুশীলনের বাস্তবায়নে এবং জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)’র সহযোগিতায় এ সভার আয়োজন করা হয়।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুশীলনের উপজেলা সমন্বয়কারী (শ্যামনগর-আশাশুনি) নিখিল রঞ্জন। তিনি জানান, ২০২৩ সাল থেকে সুশীলন উপজেলার কৈখালী, বুড়িগোয়ালিনী, পদ্মপুকুর ও গাবুরা ইউনিয়নে কাজ করে আসছে। ঘূর্ণিঝড় রিমালের সময় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি কার্যক্রম বাস্তবায়নে ৫ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেয়া হয়।
এছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে ১২ জন করে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে ডাটাবেজ তৈরি করা হয়েছে।
আগাম প্রস্তুতি নিশ্চিত করা গেলে দুর্যোগজনিত ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুজ্জাহান কনক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শ্যামনগর দেশের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। প্রায় প্রতি বছরই প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ অঞ্চলের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সুশীলন অতীতেও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেছে এবং ভবিষ্যতেও আরও বিস্তৃত পরিসরে কাজ করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিরাজ হোসেন বলেন, উপকূলীয় এ উপজেলার বেড়িবাঁধ ও অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সুশীলন ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্থানে রাস্তা ও বেড়িবাঁধ সংস্কারে কাজ করেছে। শ্যামনগরের উন্নয়নে বড় পরিসরে বেড়িবাঁধ ও সড়ক সংস্কার প্রকল্প গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদ হোসাইন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা শেখ শহিদুল রহমানসহ উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা।

