মণিরামপুর সংবাদদাতা
যশোরের মণিরামপুরে কবিরাজের আড়ালে দীর্ঘদিন জাল টাকা কারবারের অভিযোগ উঠেছে কুলটিয়া ইউনিয়ন ওলামা লীগের সভাপতি এমদাদ কবিরাজ ও তার সহকারী আজিবরের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে জাল টাকা ছাপানোর সময় হাতেনাতে এমদাদের সহকারী আজিবরকে আটক করে এলাকাবাসী।
শুক্রবার সকালে আটক করে প্রধান কবিরাজ এমদাদকে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আটক দুজনকে থানায় নিয়ে আসে। এ ব্যাপারে প্রধান কবিরাজ এমদাদুল হক, সহকারী কবিরাজ আজিবর রহমান ও কম্পিউটার দোকানের মালিক মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের কালার মোড়ে দুইতলা ভবনে দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজি করে আসছিলেন ডাঙ্গামহিষদীয়া গ্রামের বাসিন্দা ইউনিয়ন ওলামা লীগের সভাপতি এমদাদুল হক ও যশোর সদর উপজেলার মাহিদীয়া গ্রামের আজিবর রহমান।
আজিবর রহমান ডাঙ্গামহিষদীয়া বাজারে নওয়াব আলীর দুইতলা বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন। কিন্তু স্থানীয় আশরাফুল ইসলাম, হযরত আলীসহ এলাকাবাসীর অভিযোগ কবিরাজীর আড়ালে এমদাদ ও তার প্রধান সহকারী আজিবর জালটাকার কারবার করে আসছিল।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলামসহ স্থানীয় অনেকেই জানান, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে কালারমোড়ে মফিজুর রহমানের কম্পিউটারে দোকানের দরজা বন্ধ করে জাল টাকা ছাপানোর (প্রিন্ট) সময় এলাকাবাসী হাতেনাতে আটক করে আজিবরকে। কিন্তু এ সময় কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যায় মফিজুর রহমান ও এমাদাদুল হক।
শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে এলাকাবাসী ডাঙ্গামহিষদীয়া থেকে আটক করে প্রধান কবিরাজ ওলামা লীগের সভাপতি এমদাদুল হককে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তাদেরকে থানায় নিয়ে আসে। এসআই মনিরুজ্জামান হাজরা জানান, এ সময় আলামত হিসেবে জব্দ করা হয় একটি কম্পিউটার, একটি প্রিন্টার, একটি কিবোর্ড ও বেশ কয়েকটি প্রিন্ট করা ১০০০ হাজার টাকার জাল নোট।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আবু সাঈদ জানান, জিজ্ঞাসাবাদে জাল টাকা ছাপানোর সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এমাদাদুল হক ও তার সহকারী আজিবর রহমান এবং কম্পিউটার দোকান মালিক মফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তবে মফিজুরকে পুলিশ এখনও আটক করতে পারেনি।

