পাইকগাছা সংবাদদাতা
মাত্র ২০ হাজার টাকা!
আর সেই টাকার দাবিতে চরম অমানবিকতার সাক্ষী হলো পাইকগাছার গড়াইখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ
কুমখালী গ্রাম। সুদের টাকার জন্য পাষাণ হৃদয়ের পরিচয় দিয়ে প্রকাশ্যে এক অসহায় কৃষকের
গোয়াল থেকে জোরপূর্বক বকনা গরু খুলে নিয়ে গেছে এক পাওনাদার। ভাতিজার ঋণের দায়
চাপানো হয়েছে সম্পূর্ণ নিরীহ কাকা শ্বশুরের ওপর। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় হতবাক এলাকাবাসী।
সুবিচারের আশায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ঘটনার সূত্রপাত গত ১৭
আগস্ট। স্থানীয়রা জানান, কুমখালী গ্রামের চন্দন বৈদ্য অভাবের তাড়নায় নানা কারণে এলাকার
মানুষের কাছ থেকে ফাঁকা চেক ও স্ট্যাম্প জমা রেখে সুদে বা ধারে টাকা নিতেন। ঋণের দায়ে
জর্জরিত চন্দন বর্তমানে এলাকাছাড়া। এই সুযোগে চন্দনের কাছে ২০ হাজার টাকা পাওনা দাবি
করে শান্তার গুচ্ছ গ্রামের ওবায়দুর গাজী চন্দনের বাড়িতে এসে হাজির হন।
বাড়িতে স্বামী না
থাকায় চরম অসহায়ত্বের মধ্যে পড়েন চন্দনের স্ত্রী বাসন্তী। তিনি ওবায়দুরের কাছে হাতজোড়
করে আকুতি জানান, “পৌষ মাস পর্যন্ত আমাকে একটু সময় দিন, আমি টাকাটা শোধ করে
দেব।” কিন্তু পাষাণ হৃদয়ের ওবায়দুর সেই করুণ আকুতিতে বিন্দুমাত্র কর্ণপাত করেননি। টাকা
না পেয়ে একপর্যায়ে তিনি চন্দনের কাকা শ্বশুর পরিমল বৈদ্যের গোয়ালে ঢুকে পড়েন।
সেখান থেকে প্রায় ৭০
হাজার টাকা মূল্যের একটি বকনা গরু জোর করে খুলে নিয়ে যাওয়ান ওবায়দুর। এ সময় পরিমল
বৈদ্যের স্ত্রী ঝর্ণা বৈদ্য তাকে বাধা দিয়ে অনুনয়-বিনয় করলেও কোনো কথাই শোনেননি তিনি।
চোখের সামনে দিয়ে জোর করে তাদের আদরের গরুটি নিয়ে যায় পাওনাদার। নিরুপায় হয়ে
দাঁড়িয়ে দেখা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না অসহায় নারী ঝর্ণা ও বাসন্তীর।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত
ওবায়দুর গাজীর কাছে জানতে চাইলে তিনি গরু ছিনিয়ে নেয়ার ঘটনাটি স্বীকার করে বলেন, “চেক-স্ট্যাম্প
রেখে চন্দন টাকা ধার নিয়েছে। বহুবার তাগাদা দেয়ার পরও পাওনা টাকা না পেয়ে আমি গরু
ধরে এনেছি।” তবে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় চন্দনের স্ত্রীরও সায় ছিল।
নিরুপায় হয়ে নিরীহ
কৃষক পরিমল বৈদ্য নিজের শেষ সম্বল গরুটি ফেরত পেতে ওবায়দুর গাজীকে বিবাদী করে
পাইকগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
এ বিষয়ে পাইকগাছা
থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আওয়াল কবির জানান, “এমন একটি অভিযোগ আমরা পেয়েছি। একজন
পুলিশ কর্মকর্তাকে বিষয়টি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তে সত্যতা প্রমাণিত হলে অবশ্যই
কঠোর আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।”

