বাংলার ভোর প্রতিবেদক
যশোরের কেশবপুর উপজেলার সাতবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম গোলাম হোসাইনের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি গত তিনবছর ধরে তাকে যৌন হয়রানি করা হচ্ছে। মাধ্যমিকে ভর্তি হওয়ার পরও তার পিছু ছাড়েনি ওই শিক্ষক। যে কারণে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার।
শনিবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানিয়ে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মামা বিএম শফিকুল ইসলাম প্রিন্স।
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বর্তমানে সাতবাড়ীয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সাতবাড়ীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক জিএম গোলাম হোসাইনের কুনজর তার উপর পড়ে। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়াকালে ওই শিক্ষক তাকে কোলে বসিয়ে স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে যৌন নির্যাতন শুরু করে। পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বিভিন্ন সময় তাকে ডেকে যৌন হয়রানি করা হতো। ভয়ভীতি দেখানোর কারণে সে কখনো বিষয়টি কাউকে জানায়নি। চলতি বছর প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির কথা বলে ওই শিক্ষার্থীকে ডেকে নিয়ে ফের যৌন হয়রানিমূলক আচরণ করেন শিক্ষক জিএম গোলাম হোসাইন। এরপর মেয়েটি বিষয়টি তার বাবা-মাকে জানালে ওই শিক্ষক বিভিন্নভাবে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন।
ইতোমধ্যে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার, যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক বরাবরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। এমতাবস্থায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে শিশুর ভবিষ্যৎ ও মানসিক সুস্থতার কথা বিবেচনা করে ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে নির্যাতিত শিক্ষার্থীর মা, বাবা ও খালা উপস্থিত ছিলেন।
