কোটচাঁদপুর সংবাদদাতা :
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে হুমায়রা নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলা হলেও নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হুমায়রাকে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের রডের সঙ্গে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
মঙ্গলবার দুপুরে কোটচাঁদপুর পৌরসভার বাদামহাটপাড়ায় শ্বশুরবাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে হুমায়রাকে উদ্ধার করে কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত হুমায়রা কোটচাঁদপুরের বেনেপাড়া এলাকার বদিউল আলমের মেয়ে। প্রায় পাঁচ বছর আগে পারিবারিকভাবে বাদামহাটপাড়ার আবু নাঈমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের নুসাইবা (৩) ও নোমান (প্রায় দেড় বছর) নামে দুটি সন্তান রয়েছে।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। সেখানে মরদেহ দেখার পর তাদের সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, মরদেহের কিছু বিষয় তাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি।
হুমায়রার পরিবারের দাবি, স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকে হুমায়রার ওপর বিভিন্ন সময় মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন করা হতো।
হুমায়রার চাচি সালমা অভিযোগ করেন, মরদেহ দেখার সময় তিনি কানের ওপর আঘাতের মতো একটি চিহ্ন দেখতে পান। তার দাবি, ওই চিহ্নসহ মরদেহের বিভিন্ন বিষয় দেখে তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
হুমায়রার দুই ভাই আব্দুল্লাহ ও নুরুল্লাহ বলেন, প্রথমে তারা আত্মহত্যার খবর পেয়ে হাসপাতালে যান। পরে মরদেহ দেখে তাদের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়। তাদের অভিযোগ, হুমায়রাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে।
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, হুমায়রার বড় সন্তান, শ্বশুর সেলিম হায়দার ও শাশুড়ির বক্তব্যও অসঙ্গতিপূর্ণ।
কোটচাঁদপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, অভিযোগ ও অন্যান্য বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনসহ অন্যান্য আলামত ও তথ্য-প্রমাণ গুরুত্বপূর্ণ।
