জীবননগর সংবাদদাতা
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসদাহ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করে তিন মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে ক্লিনিকটি সিলগালা করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল আলম রাসেলের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে হাসদাহর বাইতুল মামুর চক্ষু হাসপাতালে এ অভিযান চালানো হয়। অভিযানে তাফহিমুল হোসাইন (৪৫) নামের ওই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, তাফহিমুল হোসাইন কোনো স্বীকৃত চিকিৎসক না হয়েও নিজেকে চক্ষু বিশেষজ্ঞ পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছিলেন। তিনি চোখের ছানিপড়া অপারেশনসহ বিভিন্ন জটিল চিকিৎসা করার নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছিলেন।
আরও জানা যায়, তিনি অন্য এক চিকিৎসকের বিএমডিসি নিবন্ধন ব্যবহার করে প্রতারণামূলকভাবে চিকিৎসা কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন। অভিযান চলাকালে তার কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বৈধ সনদপত্র চাইলে তিনি কোনো কিছুই দেখাতে পারেননি।
এ অপরাধে বাংলাদেশ মেডিক্যাল ও ডেন্টাল কাউন্সিল আইন, ২০১০ এর আওতায় তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয় এবং ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেয়া হয়।
দণ্ডিত তাফহিমুল হোসাইন ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর উপজেলার বহরমপুর গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান,দীর্ঘদিন ধরে এই ক্লিনিকে ভুয়া চিকিৎসার নামে প্রতারণার অভিযোগ থাকলেও এতদিন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে আজ প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।
এছাড়াও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে ভুয়া চিকিৎসক যারা আছে তারা চিকিৎসার নামে প্রতারণা করতে পারবে না বলে অভিমত অভিজ্ঞজনদের।
অভিযানকালে উপস্থিত ছিলেন জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. ফাহমিদা আক্তার রুনা ও জীবননগর থানা পুলিশের একটি টিম।

