হিমেল খান :
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানী পাটুয়ারটেক সৈকত সংলগ্ন ‘টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্ট’-এ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১০ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকালে ঘটা এ দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজন যশোরের মণিরামপুর উপজেলার এবং ছয়জন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত এক ওষুধ কোম্পানির কর্মকর্তার পরিবারের সদস্য। এ দুর্ঘটনায় দুই পরিবারের ১০ জনের মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন ওই কাঠের তৈরি রিসোর্টে হঠাৎ আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয়রা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন।
নিহত চারজন হলেন, যশোরের মণিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের নাহিদুর রহমান (৪১), তার স্ত্রী আফসানা মতিন তানিজ (৩৬) এবং তাদের দুই মেয়ে রুজাইনা ইনায়া (৭) ও সুনাইনা ইহানা (৩)। নাহিদুর রহমান ঢাকায় একটি কোম্পানিতে কর্মরত ছিলেন।
পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আবকাশযাপনে কক্সবাজারে গিয়ে টুপটুপ রিসোর্টে উঠেছিলেন তারা। শনিবার সকালে রিসোর্টে আগুন লাগলে তারা রিসোর্টের মধ্যেই ছিলেন। সেখানেই একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে নিহত অপর ছয়জন চুয়াডাঙ্গায় কর্মরত ওষুধ কোম্পানি ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাণের জেষ্ঠ্য বিপণন কর্মকর্তা নূর আলমের স্ত্রী ফারিয়া কবির (৩৩), পাঁচ বছর বয়সী সন্তান ফাইজান নূর এবং তার শ্যালক নাসির উদ্দিন (২৫)। এ ছাড়া তার তিন শ্যালিকা ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), লায়লা জাহান নাবিলা (২৭) ও মিলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩) নিহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় নূর আলমের সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার স্ত্রী অসুস্থ থাকায় স্ত্রী-সন্তান ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজারে বেড়াতে যান তিনি। তবে অফিসের কাজ থাকায় শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় ফিরে আসেন। শনিবার সকালে গণমাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানার পর পরিবারের সদস্যদের খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, নিহত ছয়জনই তার পরিবারের সদস্য।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে মেরিন ড্রাইভ সড়ক সংলগ্ন ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও বিজিবি উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
ফায়ার সার্ভিসের কক্সবাজারের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসেন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শনিবার রিপোর্টটি লেখা পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আরও মরদেহ থাকতে পারে। উদ্ধার অভিযান চলমান রয়েছে।
এ ঘটনায় দগ্ধ ছয়জন কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসক শিহাব উদ্দীন ও তাঁর স্ত্রী নাফিজা নেওয়াজ খানসহ আরও চারজন রয়েছেন।
একসঙ্গে পরিবারের এতজন সদস্যকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ স্বজনেরা। আনন্দের ভ্রমণ শেষ হয়েছে দুই পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি ও বেদনাবিধূর ঘটনায়।
এদিকে, কক্সবাজারের ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার ‘টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্ট’-এর ম্যানেজার মোহাম্মদ সুমনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে তাকে আটক করা হয়।
আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুর রহমান মজুমদার জানান, রিসোর্টের ম্যানেজার সুমনকে পুলিশি হেফাজতে নেয়া হয়েছে এবং অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে তাকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।
