বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মহাসপ্তমীতে যশোর শহরের মন্দির ও পূজামণ্ডপগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। শনিবার সকাল থেকে দেবী দুর্গার আরাধনা, পুষ্পাঞ্জলি, ঢাকের বাদ্য, শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপগুলো। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি ভক্তদের উপস্থিতিতে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে দুর্গোৎসবের আয়োজন।
শহরের রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন, বেজপাড়া সার্বজনীন পাড়া পূজা মন্দির, লালদিঘির পাড়ের হরিসভা মন্দির, মাড়োয়ারি মন্দির এবং বড়বাজার কালীবাড়ি মন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপে মহাসপ্তমীর পূজার আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ছয় দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের দ্বিতীয় দিন ছিল শনিবার। বাংলা পঞ্জিকা অনুযায়ী, এ বছর শনি ও রোববার দুই দিনজুড়ে মহাসপ্তমী তিথি থাকায় দুই দিনই সপ্তমীর ধর্মীয় আচার পালিত হবে। তবে সপ্তমী পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা শনিবার সকালে সম্পন্ন হয়।
সপ্তমীর সকালে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দেবী দুর্গার প্রতিবিম্ব আয়নায় প্রতিফলিত করে বিশেষ পদ্ধতিতে স্নান করানো হয়। এরপর নবপত্রিকা স্থাপন ও পূজার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। নবপত্রিকার স্নানকে প্রচলিতভাবে ‘কলাবউ স্নান’ বলা হয়।
পূজা শেষে ভক্তরা হাতে ফুল ও বেলপাতা নিয়ে মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে দেবীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন করেন। এ সময় পরিবার, সমাজ ও দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন তাঁরা।
যশোর শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সকাল থেকেই পূজার আনুষ্ঠানিকতার পাশাপাশি ভক্তদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। ঢাকের তালে তালে ধূপের ধোঁয়া, কাঁসরঘণ্টা ও শঙ্খধ্বনিতে সৃষ্টি হয় ভক্তিময় পরিবেশ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে পূজামণ্ডপগুলো হয়ে ওঠে মিলনমেলা।
শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে যশোর শহরের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। ধর্মীয় উৎসবের পাশাপাশি দুর্গাপূজা বাঙালির ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অন্যতম প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এদিকে দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনের লক্ষ্যে সারা দেশের মতো যশোরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা রয়েছে।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন ঘোড়ায় এবং গমন নৌকায়। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উৎসব ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে যশোর শহরের মন্দিরে মন্দিরে চলছে দেবী দুর্গার বন্দনা। ভক্তদের প্রার্থনা—অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে পৃথিবীতে প্রতিষ্ঠিত হোক শান্তি, কল্যাণ ও মানবতা।
