সুমন ব্রহ্ম, ডুমুরিয়া
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার মিকশিমিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জরাজীর্ণ অবকাঠামোর মধ্যে চলছে পাঠদান। বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয়ের বারান্দা ও শ্রেণিকক্ষের বিভিন্ন স্থানে পানি পড়ে। এতে ভিজে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের বই-খাতা, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। বিদ্যালয়ের সামনের নিচু জায়গায় পানি জমে সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা ও কাঁদার। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের ভবন ও ছাউনির বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ। বৃষ্টির পানি থেকে শ্রেণিকক্ষ সুরক্ষিত রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বিদ্যালয়ের মাঠ ও সামনের অংশে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থীদের চলাচল ও খেলাধুলাও ব্যাহত হচ্ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৫১ সালে চুকনগর-শাহাপুর সড়কের মিকশিমিল বাজারসংলগ্ন ৬১ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০২৪ সালে পুরোনো ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০০৮ সালে নির্মিত দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবনে বর্তমানে সীমিত পরিসরে পাঠদান চলছে। বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ২৫০ জন। শিক্ষক আটজন এবং অফিস সহকারী একজন।
বিদ্যালয়টি থেকে চলতি বছর চারজন শিক্ষার্থী প্রাথমিক বৃত্তি পেয়েছে। তবে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের পাশাপাশি পাঠদানের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে শিক্ষক ও অভিভাবকদের।
প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ সরদার বলেন, বিদ্যালয়ের ছাউনির টিনগুলোতে অসংখ্য ছিদ্র হয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। এতে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বই-খাতা ভিজে নষ্ট হয়। বিদ্যালয়ের সামনের জায়গা নিচু হওয়ায় বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও খেলাধুলায় সমস্যা হচ্ছে।
বিদ্যালয়ে উপস্থিত কয়েকজন অভিভাবক জানান, বিদ্যালয়ে অভিভাবকদের বসার পর্যাপ্ত জায়গা নেই। বৃষ্টির পর মাঠে পানি ও কাদা জমে থাকে। এতে চলাচলের সময় শিশুরা পিছলে পড়ে আহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
অভিভাবক ও স্থানীয়রা বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কার, প্রয়োজনীয় শ্রেণিকক্ষ নির্মাণ এবং মাঠের জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. নুরুল ইসলাম বলেন, তিনি নতুন দায়িত্বে যোগ দিয়েছেন। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা না থাকায় এ মুহূর্তে কিছু বলতে পারছেন না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
