সুমন ব্রহ্ম, ডুমুরিয়া
দুর্গাপূজা উদযাপনে খুলনার ডুমুরিয়ার রুদাঘরা ইউনিয়নে পাশাপাশি দুটি মন্দিরে শত শত প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। পৌরানিক কাহিনীর আদলে সাজানো এসব প্রতিমা তৈরিতে এ মন্দিরগুলোকে ঘিরে ডুমুরিয়া উপজেলারসহ আশেপাশের জেলাগুলোতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ তৈরি হয়েছে।
উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের খর্নিয়া গ্রামের শতবর্ষী দুর্গামন্দিরে সর্বাধিক ২০১টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে মিকশিমিল সাহাপাড়া সার্বজনীন পূজা মন্দিরে ১৫২টি প্রতিমা তৈরি করে ৫২তম দুর্গোৎসব পালনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আর এ দু মন্দিরের আয়োজনকে ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বী শুধু নয় অন্যান্য ধর্মের মানুষের মধ্যেও তৈরি হয়েছে উচ্ছ্বাসের।
সরেজমিনে খর্নিয়া কালার বটতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, আলোকোজ্জ্বল মণ্ডপে ভাস্কররা প্রতিমার রং-তুলির কাজ করছেন। সেখানে উপস্থিত স্কুলশিক্ষার্থী তৃপ্তি রায়, চৈতি রায় ও তপতি চৌধুরী জানায়, স্কুলের সময়ের আগেই তারা দুই মন্দিরের প্রতিমা দেখতে এসেছে। সাহাপাড়ার গেটে বড় হনুমান, রাম-লক্ষ্মণ-সীতার প্রতিমা এবং খর্নিয়ায় বকাসুর বধ ও গোপালভাঁড়ের মূর্তি দেখে তাদের খুব ভালো লেগেছে।
সাতক্ষীরার ঘোষনগর গ্রামের শিমুল দাস (৩৫) প্রায় তিন লাখ টাকা পারিশ্রমিকে সাহাপাড়া মন্দিরে ১৫২টি প্রতিমা তৈরি করেছেন। অন্যদিকে, খর্নিয়া মন্দিরের ভাস্কর স্থানীয় অভিলাষ মণ্ডল (৩০)। তাঁর পারিশ্রমিকও প্রায় তিন লাখ টাকা হলেও তিনি তৈরি করেছেন ২০১টি প্রতিমা। এখনো রং করার কাজ শেষ হয়নি। তবুও দর্শনার্থীদের ভিড় লেগেই আছে।
ধর্মীয় পৌরাণিক কাহিনির আলোকে সাহাপাড়া মন্দিরে প্রতিমার মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে মা দুর্গার নয়টি রূপ, রথযাত্রা, রাম-সীতার সংক্ষিপ্ত কাহিনি, ভগীরথের সাত পুত্রের পুনর্জন্ম, রক্তবীজ বধ এবং মা কালীর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড। এ ছাড়া শিব, সরস্বতী,শ্রীকৃষ্ণ ও বড় হনুমানের মূর্তিও তৈরি করা হয়েছে। অন্যদিকে, খর্নিয়া মন্দিরে তুলে ধরা হয়েছে ভীষ্মের প্রতি শ্রীকৃষ্ণের অস্ত্র ধারণ, দক্ষযজ্ঞ, সত্যবানের মৃত্যু, ভীষ্মের রাক্ষস বধ, অর্জুন-নাগকন্যা, রাজা হরিশচন্দ্রের শ্মশানঘাট, ভগীরথের গঙ্গা লাভ, শ্রীকৃষ্ণের বকাসুর বধ এবং রামের সীতা উদ্ধারের মতো বিভিন্ন পৌরাণিক ঘটনাচিত্র।
খর্নিয়া কালার বটতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক সুব্রত সরকার বলেন, উপজেলার মধ্যে রুদাঘরা ইউনিয়নে প্রায় একই জায়গায় সবচেয়ে বেশি প্রতিমার দুটি পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ কারণে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থী এখানে আসবেন এবং দুটি মণ্ডপের প্রতিমা দেখে আনন্দ পাবেন।’
তবে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, শতবর্ষী এই পুরোনো মন্দিরের উন্নয়নে তারা কোনো সরকারি সহায়তা পান না।
অন্যদিকে, সাহাপাড়া মন্দির কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কার্তিক চন্দ্র সাহা বলেন, সাহাপাড়ার পূজারিদের অনুদানে গত ৫২ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তাদের পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। মানুষের আনন্দই তাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।
এ প্রসঙ্গে ডুমুরিয়া উপজেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্টের সভাপতি টুটুল কুণ্ডু বলেন, ডুমুরিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে এ বছর ২২৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর মধ্যে রুদাঘরা ইউনিয়নের খর্নিয়া মন্দিরে সর্বাধিক ২০১টি এবং পাশের সাহাপাড়া মন্দিরে ১৫২টি প্রতিমা তৈরি করায় এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়ে।’
ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবিতা সরকার বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ পরিবেশ রক্ষায় আমরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জোরদার করেছি। আশা করছি, উৎসবের দিনগুলো সবার আনন্দে কাটবে।
