বাঘারপাড়া সংবাদদাতা :
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আ. আলিমকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। নীতিমালাবহির্ভুত কাজের জন্য মোবাইল ফোনে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগ এবং একটি ফৌজদারি মামলায় কারাভোগের বিষয় উল্লেখ করে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
সোমবার যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান স্বাক্ষরিত পত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পত্রে উল্লেখ করা হয়, নীতিমালাবহির্ভুত কাজ করার জন্য মোবাইল ফোনে ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করার বিষয়টি প্রতীয়মান হয়েছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর সপ্তম অধ্যায়ের সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ৪৪ ধারা অনুযায়ী অসদাচরণ, দুর্নীতিপরায়ণতা ও প্রতারণার দায়ে দোষী হওয়ার শামিল এবং দণ্ডনীয় অপরাধ।
পত্রে আরও বলা হয়, আ. আলিম ধলগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকাকালে বাঘারপাড়ার আমলী আদালতের সিআর মামলা নং-০৩৪/২৫, স্মারক নং-০৬৪/২৫, তারিখ ২ জুলাই ২০২৫-এর নির্দেশনা অনুযায়ী বাঘারপাড়া থানায় মামলা নং-০৫, তারিখ ১০ জুলাই ২০২৫ দায়ের করা হয়। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩২৩/৩২৪/৩২৫/৩০৭/৩০৬(খ)/৩৪ ধারায় করা হয়।
ওই মামলায় আ. আলিম ১৩ জুলাই ২০২৫ আদালতে হাজিরা দিলে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে তিনি ১৩ জুলাই থেকে ২৭ জুলাই ২০২৫ পর্যন্ত ১৫ দিন জেলহাজতে ছিলেন। এ কারণে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা, ২০১১-এর সপ্তম অধ্যায়ের সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত ৪০ ধারা অনুযায়ী তাকে প্রশাসনিকভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, গত ৩ আগস্ট উপজেলার বাসুয়াড়ী ইউনিয়নের ঘোষনগর গ্রামের আবু রায়হান ওরফে মো. রায়হান হোসেনের কাছে আ. আলিম ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। পরে আবু রায়হান স্থানীয় সরকারের যশোর জেলা উপপরিচালকের (ডিডিএলজি) কাছে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ৪ আগস্ট বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে আ. আলিমকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়। নোটিশের জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় বিষয়টি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর জেলা প্রশাসক তাকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেন।
বাঘারপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ভূপালী সরকার বলেন, সাময়িক বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

