মণিরামপুর সংবাদদাতা :
যশোরের মণিরামপুরে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ রক্ষা ও মাছের প্রজনন সংরক্ষণে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে প্রায় ১২ হাজার ৮০০ মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি ও কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় দুই ব্যবসায়ীকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উদ্ধার করা জাল পরে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য অফিস ও মণিরামপুর থানা পুলিশের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের ভিত্তিতে সকালে উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের হেলারঘাট ব্রিজসংলগ্ন মুক্তেশ্বরী নদীতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করা প্রায় ৭০০ মিটার নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল, নেট-পাটা এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধক অপসারণ করে ধ্বংস করা হয়।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেলে মণিরামপুর বাজারের সুতাপট্টির দুটি দোকানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। প্রথমদিকে দোকান মালিকরা নিষিদ্ধ জাল সংরক্ষণ ও বিক্রির বিষয়টি অস্বীকার করলেও পাশের একটি পানের দোকান ও গুদামে তল্লাশি চালিয়ে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারী ও কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়।
অভিযানে প্রায় ২ হাজার ১০০ মিটার চায়না দুয়ারী জাল উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ২ লাখ ৩৮ হাজার টাকা। এছাড়া ১০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ১৩ হাজার টাকা।
এ ঘটনায় মৎস্য সুরক্ষা ও সংরক্ষণ আইন, ১৯৫০-এর ৫(১) ধারায় মেসার্স সন্দীপ ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সন্দীপ কুণ্ডু (৩৭) এবং মেসার্স মুসলিম স্টোর (সুতোর দোকান)-এর স্বত্বাধিকারী আবুল হাসানকে (৬২) ২০ হাজার টাকা করে মোট ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
জব্দ করা সব নিষিদ্ধ জাল উপজেলা পরিষদ চত্বরে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে বলে উপজেলা প্রশাসনের বিশেষ মিডিয়া সেল নিশ্চিত করেছে।
অভিযানে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সেলিম রেজা, মণিরামপুর রিপোর্টার্স ক্লাবের এস এম তাজাম্মুল, নয়ন রায় ও তৌহিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মণিরামপুর থানা পুলিশের সদস্যরাও অংশ নেন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন বলেন, নদী ও মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ প্রতিবন্ধক অপসারণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত পরিচালিত হবে।

