বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোরজুড়ে এখন পুরোদমে চলছে আমন ধানের চারা রোপণের কাজ। কয়েক দিনের বিরূপ আবহাওয়ার পর রোদ-বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ ফিরে আসায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপণ শেষ হয়েছে। বর্তমান আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাকি জমিতেও রোপণ শেষ হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
তবে আশাবাদের পাশাপাশি রয়েছে কৃষকদের উদ্বেগও। তাদের আশঙ্কা, এই সময়ে টানা ভারি বর্ষণ হলে সদ্য রোপণ করা চারা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। যদিও কৃষি বিভাগ বলছে, আগামী কয়েক সপ্তাহে অতিবৃষ্টি বা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা না হলে চলতি মৌসুমে আবাদ ও উৎপাদনে বড় ধরনের কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার হেক্টর জমিতে চারা রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মাঠে রোপণ কার্যক্রমের গতি বাড়ছে। কৃষি বিভাগের ধারণা, সময়মতো বাকি জমিতেও রোপণ শেষ করা সম্ভব হবে।
যশোর সদর উপজেলার কৃষক আব্দুল খালেক বলেন, কয়েক দিনের ভালো আবহাওয়ায় রোপণের কাজ দ্রুত এগোচ্ছে। কিন্তু এখন যদি টানা ভারি বৃষ্টি হয়, তাহলে নতুন লাগানো চারা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই আবহাওয়া নিয়ে তাদের উদ্বেগ এখনো কাটেনি।
একই উপজেলার কৃষক আবু সাইদ বলেন, আমনের চারা রোপণের পর প্রথম ১০ থেকে ১২ দিন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় চারার শিকড় মাটির সঙ্গে স্থায়িভাবে সংযুক্ত হয়। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিতে জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকলে শিকড় ঠিকভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। এতে চারার বৃদ্ধি ব্যাহত হয়, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে চারা মারা যাওয়ারও আশঙ্কা থাকে।
আরেক কৃষক তরিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে রোপণের কাজ কিছুটা পিছিয়ে গিয়েছিল। তবে এখন আবহাওয়া ভালো থাকায় কৃষকরা পুরোদমে মাঠে নেমেছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রোপণের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন বলেন, কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির পর বর্তমানে আবহাওয়া আমন চাষের জন্য বেশ অনুকূল রয়েছে।
মাঠ পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন আবাদ সম্পন্ন হবে এবং উৎপাদনও সন্তোষজনক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি বলেন, আমন রোপণের ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে প্রথম দফায় জমিতে সার প্রয়োগ করতে হয়। তাই এ সময়ে কোনো ধরনের কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির সুযোগ যাতে না থাকে, সে জন্য জেলার সব সার বিক্রয় কেন্দ্র নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে।
সরকার নির্ধারিত দামে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রতিটি ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাকে মূল্যতালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোথাও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইউরিয়া প্রতি কেজি ২৭ টাকা, টিএসপি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকা দরে বিক্রির নির্দেশনা রয়েছে। এসব সারের সরবরাহ ও বিক্রি নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিভাগটি।
এদিকে চলতি মৌসুমের শুরুতেই গত ১৪ জুলাই জেলার ২৫ হাজার কৃষকের মধ্যে সরকারি প্রণোদনার আওতায় পাঁচ কেজি করে ধানের বিজ এবং প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার বিতরণ করা হয়েছে।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রণোদনা ও প্রয়োজনীয় কৃষি সহায়তার পাশাপাশি আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন আবাদ এবং উৎপাদন অর্জন করা সম্ভব হবে।
তবে মৌসুমের শুরুতেই যদি অতিবৃষ্টি বা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়, তাহলে সদ্য রোপণ করা চারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যাবে। এ কারণে আবহাওয়ার পরিস্থিতির মোকাবেলায় মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

