বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
যশোর সদর উপজেলার ১২ নম্বর ফতেপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদপাড়া গ্রামে পৈত্রিক ভিটা থেকে একটি পরিবারকে উচ্ছেদের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভয়ভীতি, হয়রানি ও মারধরের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযোগে বলা হয়েছে, চাঁদপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মানিক মোল্লার বসতবাড়ির সঙ্গে থাকা প্রায় দুই শতক জমি নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত। স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বি.এম. এলাম হোসেন রানাসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওই জমি দখলের চেষ্টা এবং পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, একপর্যায়ে আইনগত ও পারিবারিকভাবে জমি ভাগবাটোয়ারা করে প্রাপ্য সম্পত্তি বুঝিয়ে দেয়া হলেও বিরোধ থামেনি। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বি.এম. এলাম হোসেন রানার কাছে সহযোগিতা চাইলে তিনি বিষয়টি জানার পরও অভিযুক্তদের পক্ষ নেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, পরবর্তীতে পারিবারিকভাবে বিরোধটি মীমাংসা করে বিধবা ও এতিমদের প্রাপ্য জমি বুঝিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু ওই জমি বুঝে পাওয়ার পরও জাফর ও সুজনের রাস্তার পাশের বসতবাড়ির জমি পুরোপুরি হাতিয়ে নেয়ার চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় বিএনপি নেতাদের শালিসের আয়োজন করার কথাও অভিযোগে বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, সুজনের প্রায় ১০ লাখ টাকা মূল্যের জমি জোর করে ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি বি.এম. এলাম হোসেন রানার সহযোগিতায় মাত্র ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায় জোরপূর্বক সই করিয়ে নেয়া হয়। পরে জমির ক্রেতা আবুল কালাম আজাদ জমি দখল নিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এতে বাধা দেন বি.এম. এলাম হোসেন রানা। পরে আদালতের দ্বারস্থ হলে বিতর্কিত জমির ওপর ১৪৪ ধারায় মামলা করা হয় এবং আদালত থেকে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা নেয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ রয়েছে, আদালতের আদেশ অমান্য করে সুজন, তার বাবা জাফর আলী, জমির ক্রেতা আবুল কালাম আজাদ, তার স্ত্রী শাহনাজ পারভীন ও ছেলে রিফাত পুনরায় আইনিভাবে প্রাচীর দেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় গ্রামবাসীর সঙ্গে নিয়ে বিধবা হুমায়া ও রকি এবং বিএনপি নেতা বি.এম. এলাম হোসেন রানা নানা রকম ভয়ভীতি ও মারধর করেন বলে অভিযোগ করেছেন সুজন।
এ অবস্থায় সুজন ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগপত্রে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
