বাংলার ভোর প্রতিবেদক :
শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমী তিথি ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও নানা আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সোমবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে ভক্তদের উপস্থিতিতে কুমারী পূজা ও সন্ধিপূজা অনুষ্ঠিত হয়।
এদিন সকাল ৫টায় মহাষ্টমী পূজা এবং সকাল সাড়ে ৯টায় কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা ৫৮ মিনিট থেকে ১টা ৪৬ মিনিট পর্যন্ত সন্ধিপূজা সম্পন্ন হয়। এবছর যশোর বেজপাড়ার বাসিন্দা সোহাগ পাঠক ও মল্লিকা পাঠকের পাঁচ বছরের কন্যা প্লে-শ্রেণির শিক্ষার্থী সোহানী পাঠককে শাস্ত্রমতে ‘সুভগা’ রূপে পূজা করা হয়।
পূজা শেষে ভক্তরা অঞ্জলি প্রদান করেন। এসময় তারা প্রার্থনা করেন, “মা! সবিনয়ে প্রার্থনা করছি, তুমি প্রসন্না হও। সন্তানগণের প্রতি নিত্য স্নেহশীলা হও। চির দগ্ধ চিত্তে একবিন্দু স্নেহ বর্ষণ করে আমাদের শান্ত কর। আমাদের মঙ্গল কর।”
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিট থেকে ৭টা ১ মিনিট পর্যন্ত অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবীর ‘সন্ধিপূজা’ সম্পন্ন হয়। পূজা শেষে অসুর শক্তির বিনাশ কামনায় চালকুমড়ো, ইক্ষু গাছ ও পাকা কলা ‘প্রতীকী বলি’ দেয়া হয়।
যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমে পূজায় পুরোহিতের দায়িত্ব পালন করেন প্রণয় চক্রবর্তী এবং তন্ত্রধারী পুরোহিত ছিলেন শক্তিপ্রসাদ গাঙ্গুলী। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ ও সহসম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ।
পুরোহিতরা জানান, অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণের ৪৮ মিনিটে দেবী চামুণ্ডা রূপে চণ্ড ও মুণ্ড নামে দুই অসুরকে নিধন করেছিলেন। তাই এই সময়কে অত্যন্ত পবিত্র মনে করে সন্ধিপূজা করা হয়।
মঙ্গলবার মহানবমী। এদিন সকাল সাড়ে ৬টায় যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনে মহানবমীর বিহিত পূজা শুরু হবে। শাস্ত্রমতে এদিন ১০৮টি পদ্মফুল দিয়ে দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গার পূজা করা হবে।
বুধবার মহাদশমী। সকাল সাড়ে ৬টায় দশমী কল্পারম্ভ। বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা মতে সকাল ৮টা ৫২ মিনিটের মধ্যে পূজা সমাপন, দর্পণ বিসর্জন ও সন্ধ্যা আরাত্রিকের পর প্রতিমা নিরঞ্জন হবে। এরপর শান্তিজল সিঞ্চনের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হবে এবারের ছয় দিনব্যাপী শারদীয় উৎসব।
